শিশুদের দুধে বিষক্রিয়ার আতঙ্ক! বিশ্বজুড়ে পণ্য তুলে নিল নেসলে, ক্ষমা চাইলেন সিইও – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বখ্যাত খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী সংস্থা নেসলে (Nestlé) তাদের ‘ইনফ্যান্ট ফর্মুলা’ বা শিশুখাদ্যের বেশ কিছু ব্যাচ বাজার থেকে তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মূলত খাবারে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে এমন টক্সিনের উপস্থিতির আশঙ্কায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় নেসলে-র সিইও ফিলিপ নাভরাতিল একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
মূল ঘটনা ও সতর্কতা
- বিষক্রিয়ার ঝুঁকি: নেসলে জানিয়েছে, তাদের ‘SMA’ ব্র্যান্ডের কিছু নির্দিষ্ট ব্যাচের শিশুখাদ্যে ‘সেরুলাইড’ (Cereulide) নামক টক্সিন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি শিশুদের বমি ও বমি বমি ভাবসহ নানা শারীরিক সমস্যা তৈরি করতে পারে।
- প্রভাবিত দেশ: ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলো থেকে এই পণ্যগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
- ভারতের পরিস্থিতি: নেসলে ইন্ডিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ত্রুটিপূর্ণ ব্যাচগুলো ভারতে আমদানি করা হয়নি এবং এখানে বিক্রির জন্য নেই। ভারতের বাজারে থাকা পণ্যগুলো সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং তা FSSAI-এর নিয়ম মেনেই তৈরি।
ফর্মুলা দুধ বনাম মায়ের দুধ: বিশেষজ্ঞদের মত
এই ঘটনার পর শিশুখাদ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের জন্য মায়ের দুধ বা ‘ব্রেস্ট মিল্ক’-এর গুরুত্ব পুনরায় মনে করিয়ে দিচ্ছেন।
- মায়ের দুধই শ্রেষ্ঠ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর মতে, জন্মের প্রথম ৬ মাস শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের দুধই খাওয়ানো উচিত। এতে থাকা রোগপ্রতিরোধকারী কোষগুলো কোনো কৃত্রিম ফর্মুলা দুধে পাওয়া সম্ভব নয়।
- ফর্মুলা দুধের ঝুঁকি: বোতলে করে ফর্মুলা দুধ খাওয়ানোর সময় বোতল পরিষ্কার না থাকলে ডায়রিয়া বা ইনফেকশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়া ফর্মুলা দুধ খাওয়া শিশুদের মধ্যে ভবিষ্যতে স্থূলতা বা ওবেসিটির প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
- প্রথম টিকা: জন্মের পরপরই মায়ের শরীর থেকে যে শালদুধ (Colostrum) বের হয়, তাকে শিশুদের ‘প্রথম টিকা’ বলা হয়, যা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
বাজার পরিসংখ্যান
একটি গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতে শিশুখাদ্যের বাজারের আকার প্রায় ৫৪,৭০০ কোটি টাকা, যা ২০৩৩ সাল নাগাদ ৮৪,৭০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। এই বিশাল বাজারের ৫৪ শতাংশই দখল করে আছে ফর্মুলা দুধ।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কোনো বিশেষ শারীরিক সমস্যা বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুদের ফর্মুলা দুধ দেওয়া এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। মায়েদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার এবং পরিবারের সহযোগিতা নিশ্চিত করলে শিশুদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা সহজ হবে।

