শিশুর পাজামার দড়ি খুললেই কি ধর্ষণ? হাইকোর্টকে থামাল সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা
শিশু নির্যাতনের একটি মামলায় এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিতর্কিত পর্যবেক্ষণ বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট। হাইকোর্ট জানিয়েছিল, শিশুর স্তনে হাত দেওয়া বা পাজামার দড়ি খোলার মতো ঘটনাকে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ বলা যায় না, বরং এটি অপরাধের ‘প্রস্তুতি’ মাত্র। শীর্ষ আদালতের বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই যুক্তি খারিজ করে জানায়, এমন মন্তব্য একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং বিচারব্যবস্থায় মানবিক সংবেদনশীলতা থাকা আবশ্যিক।
শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করেছে যে, যৌন অপরাধের বিচার কেবল আইনের যান্ত্রিক ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। ভুক্তভোগীর মানসিক অবস্থা এবং পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে ব্যর্থ হলে পূর্ণ ন্যায়বিচার সম্ভব নয়। ২০২৫ সালের এক ঘটনার প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লঘু ধারা প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল, যার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনি প্রক্রিয়ায় সহমর্মিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
ভবিষ্যতে বিচারকদের আরও সংবেদনশীল করতে ন্যাশনাল জুডিশিয়াল অ্যাকাডেমিকে বিশেষ নির্দেশিকা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে তিন মাসের মধ্যে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। লক্ষ্য হলো, দেশের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বজায় রেখে আইনি প্রক্রিয়াকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও স্বচ্ছ, সহজবোধ্য এবং ভুক্তভোগীবান্ধব করে তোলা।

