শিশুর বিরুদ্ধে অপরাধের গুরুত্ব আর্থিক সাহায্যে কমে না: দিল্লি হাইকোর্ট – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: শিশুর বিরুদ্ধে সংঘটিত কোনো অপরাধের গুরুত্ব সেই পরিবারের প্রতি আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে লঘু হয়ে যায় না। ১২ বছর বয়সী এক নাবালিকাকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত এক ব্যক্তির জামিনের আবেদন খারিজ করে এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।
আদালতে পেশ করা পিটিশনে অভিযুক্ত দাবি করেছিলেন, তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তার দাবি ছিল, নাবালিকার মায়ের সঙ্গে তার সম্মতিক্রমেই সম্পর্ক ছিল এবং তিনি ওই পরিবারকে আর্থিকভাবে সাহায্য করতেন। মেয়েটি এই বিষয়টি পছন্দ করত না বলেই তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এমনকি অভিযুক্ত ব্যক্তি এও দাবি করেন যে, মেয়েটির মা জেলেও তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন।
অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ এই জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্যাতিতা নাবালিকা ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে শুরু থেকেই অনড় রয়েছে। তার বক্তব্যের ধারাবাহিকতা অভিযোগের সত্যতাকেই প্রমাণ করে।
বিচারপতি স্বরণ কান্ত শর্মার বেঞ্চ গত ১৪ জানুয়ারি এই মামলার শুনানিতে জানান, যখন কোনো নাবালিকা নিজে সামনে এসে যৌন নির্যাতনের কথা প্রকাশ করে, তখন তৃতীয় কোনো ব্যক্তির আচরণের ভিত্তিতে সেই অপরাধের গুরুত্ব বিচার করা যায় না। আদালত বলে, “অভিযোগটি একটি শিশুর বিরুদ্ধে এবং এর ভয়াবহতা কোনো তৃতীয় পক্ষের আচরণের মাধ্যমে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। যেখানে একজন নাবালিকা নিজে ধারাবাহিকভাবে নির্যাতনের কথা বলে আসছে, সেখানে জামিনের আবেদনের সময় আদালত তার বয়ানকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে বাধ্য।”
আদালত আরও স্পষ্ট করে দেয় যে, নাবালিকার মায়ের আচরণ যদি অভিযুক্তের দাবি মতো সঠিকও হয়, তবুও শুধুমাত্র সেই কারণে নাবালিকার বয়ানকে সন্দেহ করা যায় না। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, “আবেদনকারীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে নির্যাতিতার মা জেলে তার সাথে দেখা করেছেন বা তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন— এই বিষয়গুলি বর্তমান পর্যায়ে অপরাধের গুরুত্বকে কোনোভাবেই কমিয়ে দেয় না।”
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং পকসো (POCSO) আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, কথা বলার অছিলায় মেয়েটিকে একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে তিনি যৌন নির্যাতন করেন। নির্যাতিতার আরও অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি বারবার তাকে যৌন হেনস্থা করেছেন, সেই ঘটনার ভিডিও তুলে রেখেছেন এবং তাকে আটকে রেখে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলেন।

