শি মিংজে: ড্রাগন সাম্রাজ্যের সিংহাসনে কি এবার জিনপিং-কন্যা? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
চীনের রাজনীতিতে ২০২৭ সাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বছরেই চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (CCP) ২১তম জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচিত হবে, যারা কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের সদস্যদেরও নিয়োগ করবে। এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যেই জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে চীনে বড় ধরনের নেতৃত্ব বদল হতে চলেছে। বিশেষ করে শোনা যাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিজের কন্যাকে ‘ড্রাগন সাম্রাজ্যের’ সিংহাসনে বসানোর পথ প্রশস্ত করছেন।
বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরেই স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সেন্ট্রাল কমিশন ফর ডিসিপ্লিন ইনস্পেকশন (CCDI) বৈঠকে স্পষ্ট করেছেন শি জিনপিং। তিনি ওই বৈঠকে উল্লেখ করেছেন যে, দলের জন্য এখন অত্যন্ত বিশ্বস্ত, দায়িত্বশীল এবং দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ কর্মকর্তার প্রয়োজন। জিনপিংয়ের এই বক্তব্যের পর থেকেই তার একমাত্র সন্তান শি মিংজেকে ক্ষমতায় আনার জল্পনা তীব্র হয়েছে।
শি মিংজের পরিচয় ও প্রেক্ষাপট
শি মিংজে ১৯৯২ সালের ২৫ জুন চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের ফুজৌতে জন্মগ্রহণ করেন। বেইজিং জিংজান স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষার পর তিনি হাংঝৌ ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলে ফরাসি ভাষা শেখেন। নিজের পরিচয় গোপন রেখে ২০১০ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ছদ্মনামে ভর্তি হন। সেখানে মনোবিজ্ঞান (Psychology) নিয়ে পড়াশোনা করে ২০১৪ সালে ব্যাচেলর অব আর্টস ডিগ্রি লাভ করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে মিংজে অত্যন্ত প্রচারবিমুখ এবং জনসমক্ষে তাকে খুব কমই দেখা যায়। ২০০৮ সালের সিচুয়ান ভূমিকম্পের পর মিয়ানঝুর হানওয়াং এলাকায় সপ্তাহব্যাপী ত্রাণ কাজে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ২০১৩ সালে একবার বাবা-মায়ের সঙ্গে শানসি প্রদেশের লিয়াংজিয়াহে গ্রামে তাকে দেখা গিয়েছিল। মিংজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চীন সরকার অত্যন্ত কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখে। এমনকি ২০১৯ সালে তার ব্যক্তিগত তথ্য ইন্টারনেটে ফাঁস করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে যে, শি জিনপিংয়ের উত্তরসূরি হিসেবে মিংজেই চীনের দায়িত্ব নিতে পারেন। ২০২৭ সালের সেই ঐতিহাসিক ২১তম জাতীয় কংগ্রেসেই জিনপিং তার কন্যাকে পরবর্তী নেতা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আনতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

