শুভেন্দুর মুখ চেনেন না কেউ? ভবানীপুরে মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে দিলীপের মন্তব্যে তুঙ্গে জল্পনা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর উত্তেজনার পারদে নয়া মাত্রা যোগ করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুরে মনোনয়ন জমা দিতে চলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের পাশাপাশি এই হাইভোল্টেজ কেন্দ্রেও জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু। তবে মনোনয়ন পেশের আগে খোদ দলের অন্দরেই তাঁর ‘মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী’ হওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ফের মাথাচাড়া দিয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ বিবাদের গুঞ্জন।
বুধবার সকালে ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট জানান, এখনই কাউকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে মান্যতা দিচ্ছে না দল। শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়নে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতি নিয়ে যখন রাজনৈতিক মহলে শুভেন্দুর গুরুত্ব বৃদ্ধির চর্চা চলছে, ঠিক তখনই দিলীপের খোঁচা, “কে প্রার্থী হবে তা ভোটের পরে দেখা যাবে। এমন লোক প্রার্থী হন যার মুখ কেউ চেনে না।” তাঁর মতে, পার্টিতে কোনও আগাম ঘোষণা হয় না, বরং সর্বভারতীয় নেতৃত্বই সব সিদ্ধান্ত নেয়।
যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ জানানোয় শুভেন্দুই এখন বঙ্গ বিজেপির প্রধান মুখ। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সবুজ সংকেত নিয়েই তাঁকে ভবানীপুরে লড়াইয়ে নামানো হয়েছে। সোমবার নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর মনোনয়ন পেশের সময় খোদ দিলীপ ঘোষ উপস্থিত থাকলেও, ভবানীপুরের ক্ষেত্রে তাঁর এই বিতর্কিত অবস্থান নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। শুভেন্দুকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে সরাসরি মেনে না নেওয়ায় পুরনো গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ছায়া দেখছেন অনেকেই।
ভবানীপুরে মনোনয়ন পেশের আগে হাজরা মোড়ে অমিত শাহের জনসভা ও রোড শো করার কথা রয়েছে। এই কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের উপস্থিতি শুভেন্দুর পাল্লা ভারী করলেও দিলীপ ঘোষের ‘মুখ না চেনার’ মন্তব্য অস্বস্তি বাড়িয়েছে গেরুয়া শিবিরে। শেষ পর্যন্ত এই মন্তব্য নিছকই দলীয় নিয়ম রক্ষার বুলি নাকি অন্তর্কলহের বহিঃপ্রকাশ, তা নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। আপাতত সবার নজর বৃহস্পতিবারের হাইভোল্টেজ মনোনয়ন প্রক্রিয়ার দিকে।
