শেখ হাসিনার ভাষণ: দিল্লির অনুষ্ঠানে আচমকা সরব হাসিনা, ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক টানাপোড়েন তুঙ্গে – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে আশ্রয় নেওয়া প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রথমবার প্রকাশ্য কোনো কর্মসূচিতে ভাষণ দিলেন। তাঁর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়া দিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। ২৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ দিল্লির প্রেস ক্লাবে একটি অডিও বার্তার মাধ্যমে হাসিনা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর তীব্র আক্রমণ শানান।
এই ঘটনায় বাংলাদেশের মহম্মদ ইউনূস সরকার কড়া আপত্তি জানিয়েছে এবং একে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘বিপজ্জনক নজির’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
দিল্লি প্রেস ক্লাব অডিও বার্তা: শেখ হাসিনার তীব্র আক্রমণ
২০২৪ সালের আগস্টে দেশ ছাড়ার পর নিজের প্রথম প্রকাশ্য ভাষণে শেখ হাসিনা মহম্মদ ইউনূসকে “খুনি ফ্যাসিস্ট” এবং “ক্ষমতালোভী গাদ্দার” বলে সম্বোধন করেন। তিনি দাবি করেন, ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। হাসিনা তাঁর সমর্থকদের এই “পুতুল সরকার” উপড়ে ফেলার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের জন্য বড় হুমকি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দিল্লিতে আয়োজিত “সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ” অনুষ্ঠানে অডিওর মাধ্যমে দেওয়া ভাষণে হাসিনা অভিযোগ করেন যে, ইউনূস একটি “অবৈধ ও হিংসাত্মক” শাসনব্যবস্থা চালাচ্ছেন এবং দেশকে আতঙ্কের জনপদে পরিণত করেছেন।
ঢাকার ‘স্তব্ধ’ প্রতিক্রিয়া
হাসিনার এই ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা অত্যন্ত ‘বিস্মিত ও স্তব্ধ’। ঢাকা মনে করে, ভারত একজন “পলাতক” এবং “মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত” ব্যক্তিকে নিজের মাটি থেকে ‘হেট স্পিচ’ বা ঘৃণ্য ভাষণ দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এটিকে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের সরাসরি অপমান হিসেবে দেখছে মন্ত্রণালয়। তাঁদের মতে, এ ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য বাংলাদেশের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব
বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, ভারতকে হাসিনার জন্য এ ধরনের প্রকাশ্য মঞ্চ তৈরি করে দেওয়া আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের রীতিনীতির পরিপন্থী। এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ঢাকা আরও দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করার দায়িত্ব পালন করছে না।
বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন ২০২৬: ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট
এই বিতর্ক এমন এক সময়ে দানা বেঁধেছে যখন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শেখ হাসিনার দল ‘আওয়ামী লীগ’-কে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হাসিনার ভাষণকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নির্বাচনের সময় কোনো ধরণের সহিংসতার জন্য হাসিনা ও তাঁর সমর্থকরাই দায়ী থাকবেন।

