শৈশবেই কোলেস্টেরল পরীক্ষা জরুরি, হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকদের নয়া নির্দেশিকা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
হৃদরোগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় এখন শৈশব থেকেই কোলেস্টেরল পরীক্ষার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। আগে ২০ বছর বয়সের পর এই পরীক্ষার কথা বলা হলেও, আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন ও সিডিসি-র সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় ৯ থেকে ১১ বছর বয়সের মধ্যে শিশুদের রক্ত পরীক্ষা করা আবশ্যিক বলে জানানো হয়েছে। মূলত অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, জাঙ্ক ফুড এবং বংশগত কারণে অল্প বয়সেই শিশুদের ধমনীতে চর্বি জমার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের রক্তে আদর্শ কোলেস্টেরলের মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে ১৫০ থেকে ১৭০ মিলিগ্রামের মধ্যে থাকা উচিত। এই মাত্রা ২০০ মিলিগ্রাম ছাড়িয়ে গেলেই তা উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে ‘এলডিএল’ বা খারাপ কোলেস্টেরল ১১০ মিলিগ্রাম এবং ট্রাইগ্লিসারাইড ৯০ মিলিগ্রামের নিচে রাখা জরুরি। সঠিক সময়ে রক্তে চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে অকাল হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
লিপিড প্রোফাইল বা লিপিড প্যানেল টেস্টের মাধ্যমে শিশুদের শরীরে কোলেস্টেরলের স্থিতি নির্ণয় করা সম্ভব। যদি রিপোর্টে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে, তবে ধমনীর দেওয়ালে ব্লকেজ আছে কি না তা জানতে ‘ক্যারোটিড আলট্রাসাউন্ড’ করার পরামর্শ দিচ্ছেন গবেষকরা। শৈশব থেকেই খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে পরবর্তী জীবনের জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধ করাই এই নতুন নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য। বর্তমানে শিশুদের মধ্যে বাড়ছে ডিসলিপিডেমিয়ার মতো রোগ, যা সময়মতো শনাক্ত করা একান্ত প্রয়োজন।

