সংরক্ষণের লোভে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ, ‘নতুন জালিয়াতি’ রুখতে কঠোর সুপ্রিম কোর্ট – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
সরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষায় সংরক্ষণের সুবিধা পেতে ধর্ম পরিবর্তন করে বৌদ্ধ হওয়ার প্রবণতাকে ‘নতুন ধরনের জালিয়াতি’ বলে আখ্যা দিল সুপ্রিম কোর্ট। হরিয়ানার দুই জাট প্রার্থীর করা এক আবেদনের শুনানিতে আজ বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ এই কঠোর পর্যবেক্ষণ পেশ করে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও কড়া নির্দেশ:
- আসল বঞ্চিতদের অধিকার হনন: আদালত স্পষ্ট জানায়, প্রভাবশালী ও সচ্ছল উচ্চবর্ণের মানুষরা যদি এভাবে সংখ্যালঘু তকমা নেয়, তবে প্রকৃত সংখ্যালঘুরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন।
- তদন্তের নির্দেশ: কীসের ভিত্তিতে এই সংখ্যালঘু শংসাপত্র বিলি করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে হরিয়ানার মুখ্যসচিবের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে শীর্ষ আদালত।
- আবেদন খারিজ: বৌদ্ধ সংখ্যালঘু কোটায় NEET PG কোর্সে ভর্তির যে আবেদন দুই প্রার্থী করেছিলেন, তা সরাসরি খারিজ করে দেয় আদালত।
ঠিক কী ঘটেছিল?
নিখিল কুমার পুনিয়া এবং একতা নামে দুই প্রার্থী সংখ্যালঘু কোটায় মীরাটের একটি মেডিকেল কলেজে ভর্তির আবেদন জানিয়েছিলেন। শুনানির সময় বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “আপনারা কোন পুনিয়া?” আইনজীবী জানান তারা উচ্চবর্ণের জাট সম্প্রদায়ভুক্ত, কিন্তু বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করায় এখন তারা সংখ্যালঘু।
এর উত্তরে বিচারপতি সূর্যকান্ত তীব্র উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, “আপনাদের জমি-জমা, প্রাচুর্য সবই আছে। উচ্চবর্ণের হয়েও সংরক্ষণের জন্য এই পথ বেছে নেওয়া কি ঠিক? নিজেদের মেধার ওপর আপনাদের গর্ব করা উচিত।”
আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারকে এই শংসাপত্র প্রদানের প্রক্রিয়া নিয়ে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই অবস্থান তথাকথিত ধর্মান্তরের মাধ্যমে সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়ার পথকে কার্যত বন্ধ করে দিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

