সংশোধনী তালিকায় ব্রাত্য খোদ প্রাক্তন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, ভোটার তালিকা থেকে কয়েকশ নাম বাদ যাওয়ায় তীব্র উত্তেজনা

সংশোধনী তালিকায় ব্রাত্য খোদ প্রাক্তন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, ভোটার তালিকা থেকে কয়েকশ নাম বাদ যাওয়ায় তীব্র উত্তেজনা

নির্বাচন পরিচালনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন খোদ এক প্রাক্তন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের নামই বাদ পড়ল সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর বিধানসভার তুরুক-ময়না গ্রামে। বিডিও এবং ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ সামলানো মহম্মদ মতিন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় না থাকায় এলাকার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ার পর প্রকাশিত অতিরিক্ত তালিকায় দেখা যায়, ওই গ্রামের প্রায় ২৪৯ জন ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ রাখা হয়েছিল। চূড়ান্ত পর্যায়ে ২০৬ জনের নাম স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট মহম্মদ মতিন, তাঁর স্ত্রী রেজিনা বেগম, বউদি ও অন্যান্য আত্মীয়রা। ১৯৭৪ সালে সরকারি কর্মজীবন শুরু করা মতিন সাহেব নির্বাচন কমিশনের বহু শুনানিতেও অংশ নিয়েছেন। প্রয়োজনীয় নথি, পাসপোর্ট ও পেনশনের কাগজ জমা দেওয়ার পরেও কেন নাম বাদ পড়ল, তা নিয়ে তিনি বিস্মিত ও মর্মাহত।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা হওয়ার কারণেই কি পরিকল্পিতভাবে এত বিপুল সংখ্যক নাম বাতিল করা হয়েছে? মহম্মদ মতিনের বড় ছেলে মহম্মদ মোহিত এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে একে অপমানজনক বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, একই জেলার রায়না বিধানসভার মাধবডিহি এলাকাতেও বীরভূম জেলা সংখ্যালঘু দপ্তরের এক আধিকারিক, ইরফান হাবিবের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।

প্রশাসনের উচ্চপদে আসীন কর্মকর্তাদের নামই যেখানে সুরক্ষিত নয়, সেখানে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। এই ঘটনায় জেলাজুড়ে প্রশাসনিক মহলে রীতিমতো অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। দ্রুত এই ত্রুটি সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ভোটাররা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *