লেটেস্ট নিউজ

সংসদ মুলতুবিতে জনগণের ৩৩০০ কোটি টাকা নষ্ট স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে বিস্ফোরক সায়নী ঘোষ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের আমলে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ এবং বুলডোজার নীতি প্রয়োগের অভিযোগ তুলে লোকসভায় সরব হলেন তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ। স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি তথ্য পেশ করেন যে, গত দশ বছরে বারবার সংসদ মুলতুবি হওয়ার কারণে দেশের সাধারণ মানুষের করের প্রায় ৩,৩০০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।

সায়নী ঘোষ এদিন পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের শীতকালীন অধিবেশন পর্যন্ত প্রায় ২,২০০ মিনিট বা ৯২ দিন সংসদ কক্ষ অচল ছিল। সংসদ পরিচালনার জন্য প্রতি মিনিটে খরচ হয় প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা। সেই হিসেবে এই বিপুল আর্থিক ক্ষতির দায়ভার তিনি কার্যত স্পিকারের ভূমিকার ওপরই চাপিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, সরকার পক্ষ চায়নি সংসদ চলুক এবং স্পিকারের চেয়ারকে বিরোধীদের মুখ বন্ধ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

তৃণমূল সাংসদ আরও উল্লেখ করেন, ১৯৫২ সালের পর থেকে বর্তমান সময়েই সংসদের অধিবেশনের দিন সবথেকে বেশি কমেছে। ২০০৯-২০১৪ সালের তুলনায় গত কয়েক বছরে বার্ষিক অধিবেশনের গড় দিন সংখ্যা অনেক হ্রাস পেয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেখানে সংসদের ভেতর বিরোধীদের নিজেদের কথা বলার অধিকারের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে, সেখানে সাধারণ মানুষের অধিকারের লড়াই কীভাবে সম্ভব? সংসদের বাইরে ইডি-সিবিআই দিয়ে কণ্ঠরোধ এবং ভেতরে প্রতিবাদ করলে সাসপেনশনের যে নীতি কেন্দ্র নিয়েছে, তার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

বুধবার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে আনা এই অনাস্থা প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত ধ্বনিভোটে খারিজ হয়ে যায়। ভোটাভুটিতে এনডিএ জোটের পক্ষে ২৯৩টি ভোট পড়ে এবং কংগ্রেস, তৃণমূল ও সমাজবাদী পার্টিসহ বিরোধী জোটের পক্ষে পড়ে ২৩৮টি ভোট। সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে অনাস্থা প্রস্তাব পাশ না হলেও মাত্র ৫৫ ভোটের ব্যবধানে বিরোধীরা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, সংসদের ভেতরে তাঁরা শাসক জোটকে কড়া টক্কর দিতে প্রস্তুত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *