সম্পর্কের নতুন ব্যাকরণ শিখতে পারছেন না আধুনিক পুরুষরা? সমীক্ষায় উঠে এল চমকে দেওয়া তথ্য – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিউজ ডেস্ক
আজকের যুগে পুরুষরা কি সত্যিই এক গভীর সংকটের মুখোমুখি? সম্প্রতি ‘দ্য টাইমস’-এ প্রকাশিত একটি সমীক্ষা আধুনিক পুরুষতন্ত্রের এক দগদগে ক্ষতের দিকে আঙুল তুলেছে। ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী প্রায় ২,০০০ পুরুষের ওপর চালানো এই গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমান সময়ের পুরুষরা তীব্র মানসিক চাপে রয়েছেন। নারীদের ক্রমবর্ধমান প্রত্যাশা, সম্পর্কের পরিবর্তনশীল সমীকরণ এবং মানসিক ও আর্থিক স্থিতিশীলতার কঠিন মাপকাঠিতে দাঁড়িয়ে অনেকেই এই চাহিদাকে “অসহ্য” বলে মনে করছেন।
পারফরম্যান্সের চাপে পিষ্ট আবেগ
সমীক্ষা বলছে, ছোটবেলা থেকেই পুরুষদের শেখানো হয় কেবল সমস্যার সমাধান করতে এবং আবেগ বিসর্জন দিয়ে শক্ত থাকতে। বিশেষ করে ভারতীয় সমাজে ছেলেদের ‘ইমোশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি’ বা মানসিক দায়বদ্ধতার পাঠ দেওয়া হয় না। ফলে পরিণত বয়সে যখন কোনো সম্পর্কে সহমর্মিতা বা দুর্বলতা স্বীকারের প্রয়োজন পড়ে, তখন তাঁরা সেটিকে বাড়তি চাপ হিসেবে দেখেন। আসলে এই নতুন দাবি মেটানোর মতো মানসিক সরঞ্জাম তাঁদের কাছে নেই।
পিতৃতন্ত্রের খাঁচা ও একাকীত্ব
একসময় পুরুষরা কেবল “প্রোভাইডার” বা জোগানদার হিসেবে নিজেদের চিনতেন। কিন্তু আজকের স্বাবলম্বী নারীরা কেবল নিয়ন্ত্রণকারী নয়, বরং পাশে দাঁড়ানোর মতো সঙ্গী চান। যখন কোনো নারী সঙ্গীর ওপর পুরুষটি নিজেকে অপরিহার্য মনে করতে পারেন না, তখনই শুরু হয় পরিচয় সংকট। ভারতের শহুরে পুরুষদের একটি বড় অংশ এখন এই কারণেই চরম একাকীত্বে ভুগছেন, যা অনেক সময় বিরক্তি বা সম্পর্কের দূরত্ব হিসেবে প্রকাশ পায়।
বদলানোই কি একমাত্র পথ?
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট থেকে মুক্তির উপায় নারীদের প্রত্যাশা কমানো নয়, বরং পুরুষদের নিজস্ব বিবর্তন। সম্পর্কের আধুনিক ব্যাকরণ এখন আর গতানুগতিক ভূমিকার ওপর টিকে নেই, এটি এখন মানসিক অংশগ্রহণের দাবি রাখে। পুরুষত্বের যে পুরনো সংস্করণ নিজেকে বদলাতে নারাজ, আধুনিক ভালোবাসা তাকে আর গ্রহণ করছে না। তাই সঙ্গীর স্বাধীনতাকে অস্তিত্বের সংকট না ভেবে, দুর্বলতা ও সংবেদনশীলতাকে সাহসের সঙ্গে গ্রহণ করাই এখন সময়ের দাবি।

