সহবাসের পর কোষ্ঠী না মেলার অজুহাতে বিয়ে বাতিল কি অপরাধ? যুবককে নিয়ে কড়া পর্যবেক্ষণ দিল্লি হাইকোর্টের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: প্রেমের সম্পর্ক, দীর্ঘদিনের লিভ-ইন এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা— বর্তমান সমাজে এই চিত্র নতুন নয়। কিন্তু শারীরিক সম্পর্কের পর যদি কোষ্ঠী বা কুষ্ঠি না মেলার অজুহাতে কেউ বিয়ে করতে অস্বীকার করে, তবে তা কি অপরাধ? সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানিতে এই বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কড়া অবস্থান নিল দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের পর কোষ্ঠীর দোহাই দিয়ে পিছিয়ে আসা আইনের চোখে গুরুতর অপরাধ।
মামলার প্রেক্ষাপট ও প্রতারণার জাল
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক মাস আগে। এক তরুণী তাঁর দীর্ঘদিনের লিভ-ইন পার্টনারের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। তরুণীর দাবি ছিল, অভিযুক্ত যুবক তাঁকে বিয়ের কথা বলে দিনের পর দিন শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। কিন্তু বিয়ের সময় আসতেই ‘কোষ্ঠী মিলছে না’— এই অজুহাত দেখিয়ে তিনি সম্পর্ক থেকে সরে দাঁড়ান।
মামলাটি থানায় পৌঁছালে অভিযুক্ত যুবক পুনরায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন এবং তরুণীকে অভিযোগ তুলে নিতে অনুরোধ করেন। তাঁর কথায় বিশ্বাস করে তরুণী আইনি পদক্ষেপ থেকে পিছিয়ে আসেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, অভিযোগ তুলে নেওয়ার পরও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। অভিযুক্ত যুবক ফের একই ‘কোষ্ঠী’র অজুহাত দেখিয়ে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। এরপরই ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হন ওই তরুণী।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও জামিন খারিজ
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এই মামলার জামিনের আর্জি নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিযুক্ত যুবক। বিচারপতি সূর্য কান্ত শর্মার এজলাসে এই মামলার শুনানি চলাকালীন আদালতের পর্যবেক্ষণে অভিযুক্তের আচরণকে ‘প্রতারণা’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
বিচারপতি শর্মা সাফ জানান, “আগে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস করার পর কোষ্ঠী না মেলার অজুহাতে বিয়ে বাতিল করা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৯ ধারায় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।” আদালত আরও উল্লেখ করে যে, অভিযুক্তের এই বারবার মত পরিবর্তন এবং অজুহাত দেওয়া তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতির সত্যতা নিয়ে গভীর সন্দেহ তৈরি করে।
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও অকাট্য প্রমাণ
শুনানির সময় অভিযোগকারী তরুণী তাঁদের মধ্যকার কিছু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট আদালতের সামনে পেশ করেন। সেই চ্যাটে স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছে যে, অভিযুক্ত যুবক বারবার তাঁকে বিয়ের আশ্বাস দিয়েছিলেন এবং শারীরিক সম্পর্কের জন্য প্ররোচিত করেছিলেন।
বিচারপতি সূর্য কান্ত শর্মা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি মন্তব্য করে বলেন, “যদি কোষ্ঠী বিচারের মতো বিষয়গুলো অভিযুক্তের কাছে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে, তবে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের আগেই সেই বিষয়টির নিষ্পত্তি করা উচিত ছিল।” অর্থাৎ, শারীরিক সুযোগ নেওয়ার পর ধর্মীয় বা জ্যোতিষশাস্ত্রীয় অজুহাত দেখিয়ে দায় এড়ানো যায় না।
এই সমস্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত অভিযুক্ত যুবকের জামিনের আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেয়। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ আগামী দিনে ‘বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস’ সংক্রান্ত মামলাগুলোতে এক নতুন দিশা দেখাবে।

