লেটেস্ট নিউজ

সাইনাস কি পুরোপুরি সেরে যায়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা, জেনে নিন বিস্তারিত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আজকাল সাইনাসের সমস্যা অত্যন্ত সাধারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সব বয়সের মানুষকেই নাজেহাল করে তোলে। আসলে সাইনাস হলো আমাদের নাক ও মুখের হাড়ের ভেতরে থাকা বাতাসভর্তি কিছু গহ্বর। যখন এই গহ্বরগুলোতে প্রদাহ বা সংক্রমণ হয় অথবা মিউকাস জমা হয়, তখনই তাকে সাইনাসের সমস্যা বলা হয়।

সাধারণত সর্দি-কাশি, অ্যালার্জি, ধুলোবালি, দূষণ, আবহাওয়া পরিবর্তন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে এই সমস্যা দেখা দেয়। সাইনাস হলে মাথাব্যথা, নাক বন্ধ থাকা বা নাক দিয়ে জল পড়া, মুখ ও চোখের চারপাশে ভারী ভাব, গলায় কফ জমা এবং ক্লান্তি অনুভব করার মতো লক্ষণ দেখা যায়।

অনেকের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বারবার ফিরে আসে, যা দৈনন্দিন জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে। দীর্ঘস্থায়ী সাইনাসের ফলে ঘুম এবং কাজের একাগ্রতাও বিঘ্নিত হয়। এই পরিস্থিতিতে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—সাইনাসের কি কোনো স্থায়ী সমাধান আছে? চলুন জেনে নেওয়া যাক বিশেষজ্ঞের মতামত।

সাইনাসের কি স্থায়ী চিকিৎসা সম্ভব?

মৌলানা আজাদ মেডিকেল কলেজের ইএনটি বিভাগের এইচওডি প্রফেসর ডক্টর রবি মেহর জানান, সাইনাসের স্থায়ী চিকিৎসা নির্ভর করে এর কারণের ওপর। যদি সাইনাস অ্যালার্জি, সাধারণ সর্দি বা সংক্রমণের কারণে হয়, তবে সঠিক ওষুধ এবং সতর্কতার মাধ্যমে একে দীর্ঘকাল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ওষুধ, ভাপ নেওয়া (Steam), নেজাল স্প্রে এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকটাই সেরে যায়।

তবে যারা ক্রনিক সাইনাসে ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে সমস্যাটি পুরোপুরি নির্মূল না হয়ে বারবার ফিরে আসতে পারে। এমন রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার পরামর্শ দেন। কিছু গুরুতর পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা ‘এন্ডোস্কোপিক সাইনাস সার্জারি’-র পরামর্শ দিতে পারেন, যেখানে সাইনাসের বন্ধ হয়ে যাওয়া পথগুলো পরিষ্কার করা হয়। মোটের উপর, সার্জারি দীর্ঘমেয়াদী আরাম দিলেও, পরবর্তীতে সঠিক যত্ন ও সতর্কতা না নিলে সমস্যাটি আবারও দেখা দিতে পারে।

কখন চিকিৎসার প্রয়োজন হয়?

যদি সাইনাসের লক্ষণগুলো বারবার ফিরে আসে বা দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসা করানো প্রয়োজন। অনবরত মাথাব্যথা, নাক বন্ধ থাকা, মুখে ব্যথা, দুর্গন্ধযুক্ত কফ বা জ্বরের মতো লক্ষণগুলো সাইনাস গুরুতর হওয়ার সংকেত দেয়।

এছাড়া ঘরোয়া প্রতিকার বা সাধারণ ওষুধে কাজ না হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে সাইনাস অবহেলা করা উচিত নয়, কারণ এর থেকে অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

জরুরি কিছু পরামর্শ:

  • ধুলো-বালি, ধোঁয়া এবং দূষণ থেকে দূরে থাকুন।
  • অতিরিক্ত ঠান্ডা খাবার বা পানীয় এড়িয়ে চলুন।
  • নিয়মিত গরম জলের ভাপ (Steam) নেওয়া বেশ উপকারী।
  • নাক পরিষ্কার রাখুন।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন।
  • অ্যালার্জির সমস্যাকে হালকাভাবে নেবেন না।
  • উপসর্গ দেখা দিলে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *