সাত আদালতের পর এবার আসানসোল ও সিউড়ি, ফের বোমাতঙ্কে কাঁপল বাংলা ও ঝাড়খণ্ডের বিচারব্যবস্থা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা হাইকোর্ট সহ রাজ্যের সাতটি আদালতে ইমেল মারফত বোম মারার হুমকির রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল পশ্চিমবঙ্গ ও প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের বিচার বিভাগীয় চত্বর। এদিন সকালে ইমেলের মাধ্যমে আসানসোল জেলা ও দায়রা আদালত এবং বীরভূমের সিউড়ি জেলা আদালত উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একই ধরনের হুমকি বার্তা পৌঁছেছে ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ জেলা আদালতেও। একের পর এক এই ঘটনায় বিচারক, আইনজীবী এবং বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আসানসোল ও সিউড়িতে হুলুস্থুল
বুধবার সকালে পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল জেলা ও দায়রা বিচারকের কাছে একটি উড়ো ইমেল আসে। সেখানে দাবি করা হয়, আদালত চত্বরে শক্তিশালী বোমা রাখা আছে যা কিছুক্ষণের মধ্যেই বিস্ফোরিত হবে। খবর পাওয়া মাত্রই আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি ধ্রুব দাসের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও বম্ব স্কোয়াড তল্লাশি শুরু করে। একই চিত্র ধরা পড়ে বীরভূমের সিউড়ি জেলা আদালতেও। সেখানেও বিচারকের কাছে আসা ইমেলের জেরে দুপুর ১২টার পর আদালতের সমস্ত কাজ স্থগিত করে দেওয়া হয়। এজলাস ও আদালত চত্বর দ্রুত খালি করে দিয়ে মেটাল ডিটেক্টর ও স্নিফার ডগ দিয়ে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালায় পুলিশ। তবে শেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন বস্তু উদ্ধার হয়নি।
সীমানা পেরিয়ে ধানবাদেও আতঙ্ক
বাংলার পাশাপাশি এদিন ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ জেলা আদালতেও একই কায়দায় ইমেল পাঠিয়ে বোমা রাখার দাবি করা হয়। সেখানেও আদালতের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয় এবং পুলিশি তল্লাশিতে গোটা এলাকা কার্যত দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়। মঙ্গলবারের পর বুধবারের এই ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই ভুয়ো হুমকি বার্তার পিছনে কোনো বড়সড় চক্র কাজ করছে।
নবান্নের জরুরি বৈঠক ও প্রশাসনের আশ্বাস
আদালত চত্বরে পর পর এই নাশকতামূলক হুমকির ঘটনায় নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আদালতের নিরাপত্তা রক্ষা করা রাজ্য সরকারের অগ্রাধিকার। বিচার বিভাগীয় চত্বরগুলিতে বাড়তি নজরদারি শুরু হয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি।
তদন্তে সাইবার ক্রাইম শাখা
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই কেউ পরিকল্পিতভাবে এই ইমেলগুলি পাঠাচ্ছে। লালবাজার এবং রাজ্য পুলিশের সাইবার অপরাধ শাখা ইতিমধ্যেই ইমেলের আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাক করে অপরাধীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে। বারবার কেন বিচারব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে এই ধরণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তার নেপথ্যে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
আদালত চত্বরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে আরও কঠোর প্রোটোকল জারির চিন্তাভাবনা করছে প্রশাসন।

