লেটেস্ট নিউজ

সাবধান কিচেন সিঙ্কে এই ভুলগুলো করছেন না তো? লক্ষ্মী বিদায় হতে পারে আপনার অজান্তেই – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সংসারে সুখ-শান্তি এবং সমৃদ্ধি বজায় রাখতে বাস্তু শাস্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে রান্নাঘরকে বলা হয় বাড়ির শক্তির উৎস। বাস্তুবিদদের মতে, রান্নাঘরের প্রতিটি কোণ ইতিবাচক ও নেতিবাচক শক্তির আধার হতে পারে। অনেক সময় আমরা অজান্তেই কিচেন সিঙ্কের নিচে এমন কিছু জিনিস স্তূপ করে রাখি, যা বাড়ির আর্থিক উন্নতির পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। দেবী লক্ষ্মীর কৃপা ধরে রাখতে এবং বাস্তুদোষ কাটাতে সিঙ্কের নিচের অংশ নিয়ে আজই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

কিচেন সিঙ্কের নিচে এই ৫টি জিনিস ভুলেও রাখবেন না

১. ডাস্টবিন বা আবর্জনার পাত্র

অনেকেই জায়গা বাঁচাতে কিচেন সিঙ্কের ঠিক নিচেই ডাস্টবিন রাখেন। বাস্তু শাস্ত্র অনুযায়ী, সিঙ্ক হলো জলতত্ত্বের প্রতীক যা অত্যন্ত পবিত্র। এর ঠিক নিচে নোংরা আবর্জনা রাখা মানেই হলো সেই পবিত্রতাকে নষ্ট করা। এর ফলে বাড়িতে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব বাড়ে এবং পরিবারের সদস্যদের মানসিক অশান্তি ও অকারণ খরচ বৃদ্ধি পায়। ডাস্টবিন রাখার সঠিক স্থান হলো রান্নাঘরের উত্তর-পশ্চিম কোণ।

২. ঝাড়ু বা ঘর মোছার সরঞ্জাম

সিঙ্ক জলতত্ত্বের প্রতীক আর ঝাড়ু হলো ভূমি বা পৃথিবীর প্রতীক। এই দুই বিপরীতধর্মী উপাদানের সহাবস্থান বাস্তু মতে অশুভ। সিঙ্কের নিচে ঝাড়ু লুকিয়ে রাখলে আর্থিক অনটন দেখা দিতে পারে এবং বাড়ির সদস্যদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হয়। ঝাড়ু সবসময় এমন জায়গায় রাখা উচিত যা বাইরের লোকের চোখে পড়ে না এবং যা সিঙ্ক থেকে দূরে থাকে।

৩. নোংরা ও এঁটো বাসনপত্রের স্তূপ

সারাদিন শেষে অলসতার কারণে অনেকেই রাতে সিঙ্কে বা সিঙ্কের নিচে এঁটো বাসন জমিয়ে রাখেন। এটি চরম বাস্তুদোষ তৈরি করে। দীর্ঘক্ষণ পড়ে থাকা এঁটো বাসন নেতিবাচক শক্তি ও জীবাণু আকর্ষণ করে, যা পরিবারের স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই ঘুমানোর আগেই রান্নাঘর ও বাসন পরিষ্কার করার অভ্যাস করা উচিত।

৪. রাসায়নিক ক্লিনার বা ফিনাইল

হার্পিক, ফিনাইল বা কাপড় কাচার সাবানের মতো কড়া রাসায়নিক দ্রব্য সিঙ্কের নিচে রাখা অশুভ বলে বিবেচিত হয়। যেহেতু এই স্থানটি পানীয় জল এবং খাবারের খুব কাছাকাছি থাকে, তাই বাস্তু মতে এখানে বিষাক্ত রাসায়নিক রাখা সমৃদ্ধিতে বাধা দেয়। এই ধরনের জিনিসগুলো সবসময় আলাদা কোনো ক্যাবিনেটে বা উঁচু স্থানে রাখা শ্রেয়।

৫. প্লাস্টিকের ব্যাগ ও অপ্রয়োজনীয় কাগজ

বাজার থেকে আনা প্রচুর প্লাস্টিক ব্যাগ আমরা সিঙ্কের নিচে জমিয়ে রাখি। এই বিশৃঙ্খলা বা স্তূপাকার আবর্জনা বাড়ির উন্নতির পথ আটকে দেয়। অগোছালো পরিবেশ মানেই নেতিবাচক শক্তির আধিপত্য। তাই অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিক বর্জন করুন অথবা সুশৃঙ্খলভাবে অন্য কোথাও সরিয়ে রাখুন।

আপনার রান্নাঘর যত পরিষ্কার এবং বাস্তুসম্মত হবে, বাড়িতে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ ততই বাড়বে। সামান্য এই পরিবর্তনগুলো আপনার সংসারে ফিরিয়ে আনতে পারে হারানো শ্রী এবং সমৃদ্ধি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *