লেটেস্ট নিউজ

সিএএ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুরু হচ্ছে চূড়ান্ত লড়াই, ৫ মে থেকেই মিলবে সব প্রশ্নের উত্তর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ সাত বছরের টানাপড়েন আর দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটতে চলেছে। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ (CAA) আদতে সাংবিধানিক কি না, তা নিয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পথে এগোচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আগামী ৫ মে থেকে Supreme \titleonly কোর্টে শুরু হচ্ছে এই মেগা মামলার লাগাতার শুনানি। ২০১৯ সালে আইন পাশের পর থেকে ২০২৬ পর্যন্ত গড়িয়েছে এই আইনি লড়াই, এবার তারই শেষ দেখার অপেক্ষায় গোটা দেশ।

উত্তাল সাত বছর এবং আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট

২০১৯ সালে সিএএ পাশ হওয়ার পর থেকেই ভারতের রাজনীতিতে মেরুকরণ তীব্র হয়েছে। এই আইনকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজপথে ঝরেছে রক্ত, প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৫৬ জন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসাম, প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়েছিল দেশের নানা প্রান্তে। কেন্দ্র সরকার আইনটি কার্যকর করার পথে অবিচল থাকলেও, এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে Supreme \titleonly কোর্টে জমা পড়েছিল পাহাড়প্রমাণ আবেদন। বর্তমানে ২৪৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে।

আবেদনকারীদের তালিকায় যেমন রয়েছে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন অফ মুসলিম লিগ, তেমনই পক্ষভুক্ত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC), সিপিএম (CPIM) এবং ডিএমকে (DMK)-র মতো প্রধান বিরোধী দলগুলি। যদিও এর আগে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় এই আইনের ওপর স্থগিতাদেশ দেননি, যার ফলে ২০২৪ সাল থেকে দেশজুড়ে নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মতুয়া এবং উদ্বাস্তু সম্প্রদায়ের মানুষ এই আইনের সুবিধা নিতে শুরু করেছেন, যদিও সেই সংখ্যাটি প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই কম বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের।

আদালতে সওয়াল-জবাবের মূল কেন্দ্রবিন্দু

আদালতে এই মামলার লড়াই মূলত দুটি ভিন্ন মেরুর যুক্তির ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। বিরোধী পক্ষ এবং নাগরিক সমাজের দাবি, ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব প্রদান ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের পরিপন্থী। পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে আসা অ-মুসলিমদের নাগরিকত্ব দেওয়ার তালিকায় রাখলেও কেন মুসলিমদের বাদ দেওয়া হলো, সেই বৈষম্য নিয়েই সরব তাঁরা।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে যে, এই আইন ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নয় বরং ভিনদেশি শরণার্থীদের জন্য তৈরি। কেন্দ্রের যুক্তি অনুযায়ী, দেশভাগের সময় নিপীড়িত মানুষদের আশ্রয় দেওয়ার যে নৈতিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সিএএ তারই বাস্তবায়ন। এছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলিতে মুসলিমরা সংখ্যালঘু নন, তাই তাঁদের ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হওয়ার প্রশ্ন ওঠে না বলেই দাবি নয়াদিল্লির।

রায়ের দিকে তাকিয়ে দেশ

Supreme \titleonly কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ৫ থেকে ১২ মে-র মধ্যে সমস্ত পক্ষের শুনানি শেষ করা হবে। শুনানি শেষ হওয়ার ঠিক এক মাসের মধ্যেই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করতে পারে শীর্ষ আদালত। এই রায়ের ওপরই নির্ভর করছে ভারতে নাগরিকত্ব প্রদানের ভবিষ্যৎ রূপরেখা। সিএএ কি ভারতের স্থায়ী আইন হিসেবে থেকে যাবে নাকি সংবিধানে কোনো বড় বদল আসবে, তার উত্তর মিলবে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *