সিগারেটের দাম বৃদ্ধিতে বিহারের মানুষের ‘নতুন পথ’; সরকারের রাজস্বে বড় ধাক্কা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিউ দিল্লি: বিহারের মুঙ্গের জেলার সঙ্গে সিগারেট শিল্পের সম্পর্ক শতাব্দী প্রাচীন। ১৯০৭ সালে ইম্পেরিয়াল টোব্যাকো কো ম্পা নি (বর্তমানে আইটিসি লিমিটেড) এখানে তাদের প্রথম কারখানা স্থাপন করেছিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, টাটা স্টিল এবং মুঙ্গেরের আইটিসি কারখানা—দুটিই একই বছরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
তবে গত এক দশকে সিগারেটের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ঐতিহাসিক শহরের পরিচয় কিছুটা ম্লান হয়েছে। দামের এই আকাশছোঁয়া বৃদ্ধি মোকাবিলায় মুঙ্গের একটি অবৈধ পথ বেছে নিয়েছে। আজ মুঙ্গের জাল সিগারেট তৈরি এবং চোরাচালানকারী সিন্ডিকেটগুলোর প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
এখানকার স্থানীয় সিন্ডিকেটগুলো অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে কাজ করে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং এজেন্টরা নামী ব্র্যান্ডের খালি প্যাকেট ১ থেকে ১.৫ টাকায় কিনে নেয়। এরপর মুঙ্গেরের অবৈধ ইউনিটগুলোতে তৈরি করা নিম্নমানের জাল সিগারেট সেই আসল প্যাকেটে ভরা হয়। এই পণ্যগুলো বিহারের পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং ছত্তিশগড়ের বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। আসল সিগারেটের তুলনায় এগুলোর দাম অনেক কম হওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষেরা সহজেই এগুলো কিনছেন।
পুলিশের নজরদারি ও কোটি টাকার পণ্য বাজেয়াপ্ত
ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (DRI) এবং বিহার পুলিশ এই সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক ভাঙার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মুঙ্গেরের এসপি সৈয়দ ইমরান মাসুদ জানিয়েছেন, গত মাসেই পুলিশ প্রায় ৪ লক্ষ জাল সিগারেট এবং ৮৫ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এ পর্যন্ত ৩.৭ কোটি টাকা মূল্যের জাল সিগারেট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশের অভিযান জোরদার হওয়ায় অনেক অবৈধ ব্যবসায়ী জেলা ছেড়ে পালাচ্ছে।
১ ফেব্রুয়ারি থেকে বাড়ছে আবগারি শুল্ক
সরকার ঘোষণা করেছে যে, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে সিগারেটের ওপর আবগারি শুল্কে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এখন এই হার ১,০০০ সিগারেটের বিপরীতে ২,০৫০ টাকা থেকে ৮,৫০০ টাকা পর্যন্ত হবে (সিগারেটের দৈর্ঘ্যের ওপর ভিত্তি করে)। এটি ৪০ শতাংশ জিএসটি-র অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হবে। প্রশাসনের আশঙ্কা, দাম আরও বাড়লে এই অবৈধ সিগারেটের ব্যবসা পুনরায় চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারে।
আগ্নেয়াস্ত্রের শহরে অবৈধ ব্যবসার ছায়া
মুঙ্গের কেবল সিগারেটের জন্যই নয়, ঐতিহাসিক অস্ত্র তৈরির শিল্পের জন্যও বিখ্যাত। ১৭৬২ সাল থেকে এখানে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক তৈরির কারখানা রয়েছে। বর্তমানে ৩৭টি বেসরকারি কারখানা চালু আছে। তবে অবৈধ অস্ত্র তৈরি (দেশি পিস্তল) এবং বর্তমানে জাল সিগারেটের কারবার জেলার অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

