সীমান্তে রাত কাটাতে হবে পুলিশকর্তাদের, নয়া স্ট্র্যাটেজি দিল্লির – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
সীমান্ত সুরক্ষায় এবার এক নজিরবিহীন ও কৌশলী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। দেশের সীমান্ত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তার নিশ্ছিদ্র বলয় গড়ে তুলতে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বাহিনীর সমন্বয় আরও সুদৃঢ় করতে এবার সরাসরি মাঠে নামার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে পদস্থ কর্মকর্তাদের।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সাম্প্রতিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF)-সহ কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের বছরে অন্তত ৫০টি রাত কাটাতে হবে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে। শীত-গ্রীষ্ম নির্বিশেষে এই ‘নাইট হল্ট’ বা রাত্রিবাস বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্য হলো সীমান্তের একদম শেষ প্রান্তে বসবাসকারী মানুষের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলা।
কেন এই বিশেষ পরিকল্পনা?
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র পাচারের মতো ঘটনা রুখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা অপরিহার্য। আধিকারিকরা যখন গ্রামে রাত কাটাবেন, তখন সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শোনার সুযোগ পাবেন। এর ফলে:
- গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদান: গ্রামীণ স্তরে গোয়েন্দা তথ্যের নেটওয়ার্ক বা সোর্সিং আরও শক্তিশালী হবে।
- আস্থার সম্পর্ক: সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তাবাহিনী সম্পর্কে ভীতি দূর হয়ে আস্থার পরিবেশ তৈরি হবে।
- নিরাপত্তার নজরদারি: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক মনে করে, পুলিশ ও আধিকারিকরা হলেন বাহিনীর ‘চোখ ও কান’। সরাসরি উপস্থিতিতে নজরদারির ফাঁকফোকরগুলো দ্রুত ধরা পড়বে।
যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত নির্দেশিকা বা সার্কুলার জারি করা হয়নি, তবে মৌখিকভাবে বা বিশেষ নীতিগত আলোচনার মাধ্যমে বাহিনীর শীর্ষস্তরে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। দেশের কৌশলগত নিরাপত্তার স্বার্থে এই ‘রুট লেভেল কানেক্টিভিটি’ বা তৃণমূল স্তরের সংযোগ আগামী দিনে গেম-চেঞ্জার হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

