লেটেস্ট নিউজ

‘সুপ্রিম কোর্ট তাই করেছে যা আমি বলেছিলাম’: ইউজিসি বিধি স্থগিতের পর বিজেপি সাংসদের দাবি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নয়াদিল্লি: বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর নতুন বিধির ওপর সুপ্রিম কোর্ট স্থগিতাদেশ দেওয়ার পর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তুঙ্গে। ক্ষমতাসীন বিজেপি থেকে শুরু করে বিরোধী দল এবং সামাজিক সংগঠন—সকলেই এই রায়কে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করছে।

বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে এই রায়কে তাঁর পূর্ববর্তী বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে দাবি করেছেন যে, সুপ্রিম কোর্ট ঠিক সেটাই করেছে যা তিনি আগে বলেছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ তিনি লেখেন:

“ইউজিসি নিয়ে গালি দেওয়া সমস্ত জ্ঞানীরা… গত দুদিন ধরে সংসদে যাচ্ছি, কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো সদস্যই এই বিষয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন মনে করেননি। উল্টে যে সরকার প্রধানমন্ত্রী মোদীজির নেতৃত্বে ইডব্লিউএস (EWS) ১০ শতাংশ সংরক্ষণ দিয়ে দরিদ্রদের কথা ভেবেছে, তাকেই গালি দেওয়া হচ্ছে। আমি আবার করজোড়ে নিবেদন করছি, মোদীজির ওপর ভরসা রাখুন। সংবিধানের ১৪ ও ১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের আইন চলবে। সুপ্রিম কোর্ট তাই করেছে যা আমি বলেছিলাম।”

এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি নিশিকান্ত দুবে ইউজিসি বিধি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, ‘মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়’ এবং ইউজিসি বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যাবতীয় বিভ্রান্তি দূর করা হবে। তিনি একে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ১০ শতাংশ সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিলিয়ে ‘ঐতিহাসিক বিচার’ বলে অভিহিত করেন।

বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ ব্রিজভূষণ শরণ সিং সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে ‘বিচারের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, আদালত স্বীকার করেছে যে এই বিধির ফলে বৈষম্য তৈরি হতে পারত এবং সংবিধান, সমতা ও পড়ুয়াদের অধিকারই সর্বাগ্রে।

বিরোধী শিবিরের প্রতিক্রিয়া

বিরোধীরা অবশ্য এই রায়কে অন্যভাবে দেখছেন। রাজ্যসভার সাংসদ ও আরজেডি নেতা মনোজ কুমার ঝা লিখেছেন, “ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে ‘বিচার বিভাগীয় নিরপেক্ষতা’ প্রায়শই একটি মিথ; আসল প্রশ্ন হলো আইন কোন ‘স্থিতাবস্থা’কে রক্ষা করার বিকল্প বেছে নেয়।”

সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “প্রকৃত বিচার কারো প্রতি অবিচার করে না। মাননীয় আদালত সেটিই নিশ্চিত করেছেন। এটি শুধু বিধির বিষয় নয়, এটি নিয়তেরও বিষয়।”

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের হস্তক্ষেপকে সমর্থন করে বলেন, ইউজিসি-র নির্দেশিকা অসাংবিধানিক ছিল এবং আদালত সঠিক সময়ে হস্তক্ষেপ করেছে। বিএসপি নেত্রী মায়াবতীও বলেন, ইউজিসি যদি সব পক্ষকে এবং সব শ্রেণির প্রতিনিধিকে আস্থায় নিয়ে এই বিধি তৈরি করত, তবে সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি হতো না।

মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা

বঞ্চিত বহুজন আঘাড়ির প্রধান প্রকাশ আম্বেদকর সুপ্রিম কোর্টের এই স্থগিতাদেশের কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, এই নিয়মগুলি সামাজিক ন্যায় ও শিক্ষার গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী ছিল না, বরং জাতিগত বৈষম্য থেকে সুরক্ষার জন্য জরুরি ছিল। অন্যদিকে, বিজ্ঞানী ও কবি গৌহর রাজা বিষয়টিকে একটি রাজনৈতিক ‘ক্রোনোলজি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে প্রশ্ন তুলেছেন, বহুজনরা তাঁদের অধিকারের জন্য কী করবেন।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কী?

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট ইউজিসি-র ১৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ বিজ্ঞাপিত ‘ইউনিভার্সিটি গ্র্যান্টস কমিশন (প্রমোশন অফ ইক্যুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশনস) রেগুলেশনস, ২০২৬’-এর ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ জানিয়েছে, আদালত হস্তক্ষেপ না করলে এর ‘ভয়াবহ পরিণতি’ হতে পারত এবং সমাজে বিভাজন বাড়তে পারত।

আদালত প্রাথমিকভাবে বিধির ভাষাকে ‘অস্পষ্ট’ বলে অভিহিত করেছে। বিশেষ করে বিধির ৩(সি) এবং ৩(ই) ধারার মধ্যে থাকা বৈষম্যের সংজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আদালত। এই বিধির সাংবিধানিক বৈধতা খতিয়ে দেখার জন্য ইউজিসি ও কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৯ মার্চ ধার্য করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *