সেলিমের সঙ্গে মিটিং সেরেই জোটের ‘ডেডলাইন’ দিলেন হুমায়ুন, CPIM-এ কী চলছে? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলার রাজনীতিতে শুরু হলো নতুন সমীকরণ। রাজারহাটের এক হোটেলে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। বৈঠকের মূল নির্যাস— জোট এবং আসন সমঝোতা। তবে আলোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই ১৫ ফেব্রুয়ারির ‘ডেডলাইন’ দিয়ে বাম শিবিরের ওপর চাপ বাড়ালেন হুমায়ুন।
জোটের প্রস্তাব ও সেলিমের অবস্থান
বৈঠক শেষে মহম্মদ সেলিম যথেষ্ট সতর্ক মেজাজে ধরা দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং অভিপ্রায় জানতেই এই আলোচনা। সেলিম বলেন, “উনি কী করতে চান তা জানতে চেয়েছি। জোট নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কোনো কথা হয়নি। দলের অভ্যন্তরে আলোচনার পরেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
হুমায়ুনের ‘ডেডলাইন’ ও আইএসএফ প্রসঙ্গ
অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীর জোট নিয়ে বেশ চনমনে। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জোট প্রক্রিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য সেলিমকে অনুরোধ করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, জোটে আইএসএফ-কেও সামিল করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার দাবি, বিজেপি ও তৃণমূল বিরোধী ভোট একত্রিত করতেই এই উদ্যোগ।
রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও বিতর্কের ছায়া
এই বৈঠক ঘিরে ইতিমধ্যেই সিপিআইএম-এর অন্দরে ও বাইরে বিতর্কের মেঘ জমতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে:
- ধর্মীয় পরিচয় ও বামপন্থা: হুমায়ুন কবীর বর্তমানে বাবরি মসজিদ নির্মাণ এবং মুসলিমদের রক্ষাকর্তা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরছেন। এই কট্টর ভাবমূর্তির নেতার সঙ্গে জোট করলে সিপিআইএম-এর ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
- পুরানো ক্ষোভ: আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট করার সময়ও নিচুতলার বাম কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। হুমায়ুনের ক্ষেত্রে সেই সংকট আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তৃণমূলের কটাক্ষ
এই বৈঠককে কেন্দ্র করে আক্রমণ শানাতে ছাড়েনি শাসকদল তৃণমূল। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “সিপিআইএম রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে। তাই এখন ভোটের আগে ভিক্ষার পাত্র হাতে জোটের জন্য এদিক-ওদিক ঘুরছেন সেলিমরা।”
রাজারহাটের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক কি শেষ পর্যন্ত জোটের পথে হাঁটবে, নাকি বামেদের অস্বস্তি আরও বাড়াবে— তার উত্তর মিলবে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়েই।

