সোনার দাম: ব্যাপক পতনের আশঙ্কা, ক্রেতাদের জন্য বিপদের ঘণ্টা! – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে সোনার দাম। প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে নতুন রেকর্ড। সাধারণত সোনার দাম বাড়লে ক্রেতাদের খুশি হওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের মনে ভয়ের সৃষ্টি করছে। প্রশ্ন উঠছে—সোনার দাম কি সত্যিই বাড়ছে, নাকি কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হচ্ছে?
অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ‘বাবল’ তত্ত্ব
২০২৫ সালেই সোনার দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। বিশেষজ্ঞরা একে একটি ‘বাবল’ বা বুদবুদ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। এই বুদবুদ যেকোনো সময় ফেটে যেতে পারে বলে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে যে, গোল্ডম্যান স্যাকস বা জেপি মরগানের মতো বিদেশি গবেষণা সংস্থাগুলো যখন সোনার দাম বাড়ার ইতিবাচক রিপোর্ট দেয়, তখন সাধারণ মানুষ হুমড়ি খেয়ে তা কেনেন। ঠিক সেই সুযোগে বড় বিনিয়োগকারীরা সোনা বিক্রি করে মুনাফা তুলে নেন। শেষ পর্যন্ত দাম কমে গেলে সাধারণ ক্রেতারা লোকসানের মুখে পড়েন।
বাজার কারসাজির অভিযোগ
পণ্যের দাম চাহিদা ও জোগানের ওপর নির্ভর করলেও, সোনার দাম লন্ডন ও নিউ ইয়র্কের কিছু বড় ব্যাংক মিলে নির্ধারণ করে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অতীতে জেপি মরগান ব্যাংক ‘স্পুফিং’ (Spoofing) নামক কৌশলের মাধ্যমে সোনার দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়েছিল। এই পদ্ধতিতে বিপুল পরিমাণ ভুয়া অর্ডার দিয়ে দাম বাড়ানো হয় এবং পরে তা বাতিল করে দেওয়া হয়। এই অপরাধের জন্য ব্যাংকটিকে ৯২০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭,৬০০ কোটি টাকা) জরিমানা দিতে হয়েছিল, যা বাজার কারসাজির প্রমাণ দেয়।
অতীতের ইতিহাস ও বর্তমান ঝুঁকি
ইতিহাস বলছে, সোনার দাম যখনই শিখরে পৌঁছেছে, তখনই বড় ধস নেমেছে:
- ১৯৮০ সাল: দাম শিখরে ওঠার পর ৫৭% পড়ে গিয়েছিল, যা পুনরুদ্ধার করতে ২৫ বছর সময় লাগে।
- ২০১১ সাল: দাম বাড়ার পর ৪৫% ক্র্যাশ করে, যা স্বাভাবিক হতে ৪ বছর সময় নেয়।
- ২০২৬ সাল: বিশ্লেষকদের মতে, এবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। শেয়ার বাজারে ধস নামলে বিনিয়োগকারীরা নগদ টাকার প্রয়োজনে গোল্ড ও সিলভার ইটিএফ (ETF) বিক্রি শুরু করেন, যার ফলে সোনার দামে বড় ধরনের সংশোধন আসতে পারে।
খুচরা বাজারে মন্দা
সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় বর্তমানে বিয়ের মরসুম থাকা সত্ত্বেও খুচরা বাজারে সোনার বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। যখন সাধারণ মানুষ সোনা কেনা বন্ধ করে দেয়, তখন দাম কমতে বাধ্য। তাই সোনার বাজারে বড় ধরনের পতনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—এই পরিস্থিতিতে সোনা কেনার আগে অত্যন্ত সতর্ক থাকুন।

