লেটেস্ট নিউজ

স্কুল ইউনিফর্মে বুক চিরে গেল গুলি, নেপালে জেন-জি আন্দোলনে গণহত্যার নেপথ্যে কে এই ‘পিটার ১’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নিউজ ডেস্ক : নেপালের রাজপথে স্কুল ইউনিফর্ম পরা ১৭ বছরের কিশোর শ্রীয়ম চৌলাগাঈন যখন পিঠ ঠেকিয়ে ভিড় থেকে দূরে সরে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই একটি বুলেট তার মাথা এফোঁড়-ওফোঁড় করে দেয়। শুধু শ্রীয়ম নয়, গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর কাঠমান্ডুর সেই রক্তাক্ত দিনে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৯ জন নিরস্ত্র প্রতিবাদী। কিন্তু কে দিয়েছিলেন এই মরণঘাতী গুলির নির্দেশ? ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র এক চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে সেই রহস্যময় ‘কল সাইন’ এবং তার পেছনের আসল পরিচয়।

তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পুলিশের অভ্যন্তরীণ নথিতে ‘পিটার ১’ নামে একটি কল সাইন থেকে নির্দেশ এসেছিল— ‘প্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগ করো’। সূত্র মারফত জানা গেছে, এই ‘পিটার ১’ আর কেউ নন, স্বয়ং নেপাল পুলিশের তৎকালীন আইজিপি চন্দ্র কুবের খাপুং। যদিও আইনিভাবে গুলি চালানোর অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা কেবল নিরাপত্তা কমিটির হাতে থাকে, তবুও পুলিশের নথিতে আইজিপির সরাসরি নির্দেশের প্রমাণ মিলেছে।

কেন উত্তাল হয়েছিল নেপাল? রাজনৈতিক দুর্নীতি এবং বেকারত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল নেপালের নতুন প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’। ৪ সেপ্টেম্বর সরকার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো নিষিদ্ধ করলে আন্দোলন আরও সংগঠিত হয় ‘ডিসকর্ড’-এর মতো গেমিং অ্যাপে। ৮ সেপ্টেম্বর যখন ৩০ হাজার তরুণ সংসদ ভবন ঘেরাও করে, তখন পুলিশ পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে ব্যর্থ হয়।

সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল?

  • দুপুর ১২:৩০: কাঠমান্ডুর প্রধান জেলা প্রশাসক কারফিউ জারি করেন।
  • দুপুর ১২:৪০: পুলিশের লগ বই অনুযায়ী, ‘পিটার ১’ সরাসরি মরণঘাতী শক্তি ব্যবহারের সবুজ সংকেত দেন।
  • দুপুর ১:১৫: প্রথম মৃত্যু রেকর্ড করা হয়। ৩৪ বছর বয়সী বিনোদ মহর্জনকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালানো হয়।
  • দুপুর ২:০৯: স্কুল ব্যাগ কাঁধে শান্তভাবে হেঁটে যাওয়া কিশোর শ্রীয়মকে পেছন থেকে গুলি করে পুলিশ।

সরকার পতন ও বিচারহীনতা এই ঘটনার পরের দিনই ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা দেশ। পরিস্থিতির চাপে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং সরকার ভেঙে যায়। সেই রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে মোট ৭৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অথচ আজ পর্যন্ত কোনো তদন্ত রিপোর্ট আলোর মুখ দেখেনি, কাউকেই জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়নি।

আগামী ৫ মার্চ নেপালে সাধারণ নির্বাচন। কিন্তু শ্রীয়মের মা আজও ছেলের স্কুল ইউনিফর্মের দিকে তাকিয়ে বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় ও ব্যাগ কাঁধে এখনই স্কুল থেকে ফিরে আসবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *