স্ত্রী লিপ্ত জ্যাঠতুতো দাদার সঙ্গে প্রেমে! সন্তানের পিতৃপরিচয় নিয়ে মামলা ঠুকতেই কড়া দাওয়াই হাইকোর্টের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
রাজস্থানের আলওয়ারের এক ব্যক্তির করা আজব মামলা ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে বিচারবিভাগে। নিজের স্ত্রীর বিরুদ্ধে দিদির বরের সঙ্গে পরকীয়া এবং অবৈধ সন্তানের জন্ম দেওয়ার অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু ফল হলো উল্টো। অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেই ৫০ হাজার টাকার বিশাল জরিমানা হাঁকাল রাজস্থান হাইকোর্ট।
ঠিক কী ঘটেছিল?
আবেদনকারী ওই ব্যক্তির দাবি ছিল, ২০২৪ সালের মে মাস থেকে তার স্ত্রী নিজের দিদি ও জামাইবাবুর সঙ্গে বসবাস করছেন। স্বামীর অভিযোগ, তার স্ত্রীর সঙ্গে জামাইবাবুর অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে এবং সম্প্রতি তারা একটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। ওই ব্যক্তি দাবি করেন, হাসপাতালে সন্তানের জন্মের রেকর্ড থাকলেও স্ত্রী বিষয়টি অস্বীকার করছেন। এমনকি শিশুর প্রাণনাশের আশঙ্কা প্রকাশ করে তাকে আদালতে হাজির করার (Habeas Corpus) আবেদন জানান তিনি।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও কড়া ভর্ৎসনা
বিচারপতি মহেন্দ্র গোয়েল এবং বিচারপতি সমীর জৈনের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি পর্যালোচনার সময় আবেদনকারীর বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি খুঁজে পায়। আদালত লক্ষ্য করে যে, ওই ব্যক্তি নিজেই নিম্ন আদালতে জানিয়েছিলেন তিনি ওই শিশুর জৈবিক পিতা নন, বরং শিশুটি তার স্ত্রীর জামাইবাবুর সন্তান।
হাইকোর্ট স্পষ্ট জানায়:
- যদি শিশুটি তার মা এবং নিজের জৈবিক পিতার (জামাইবাবু) কাছে থাকে, তবে তাকে ‘অবৈধ আটক’ বলা যায় না।
- যেহেতু স্বামী নিজেই নিজেকে শিশুর পিতা হিসেবে অস্বীকার করেছেন, তাই শিশুর কাস্টডি চাওয়ার কোনো আইনি অধিকার তার নেই।
কেন ৫০ হাজার টাকা জরিমানা?
আদালতের মতে, স্ত্রীর চরিত্রের ওপর কালিমা লেপন করা এবং ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট করা একটি গুরুতর অপরাধ। আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করার দায়ে আবেদনকারী স্বামীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজস্থান হাইকোর্ট।

