স্বপ্নপূরণের প্রতিদান বিচ্ছেদ? স্ত্রীকে এসআই বানিয়ে বিপাকে পুরোহিত স্বামী – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ভোপাল: যে স্বামীর হাত ধরে এক তরুণী দেখেছিলেন পুলিশ অফিসার হওয়ার স্বপ্ন, সাফল্য আসার পরই সেই স্বামীকে ‘অযোগ্য’ মনে হতে শুরু করল স্ত্রীর। ভোপালের পারিবারিক আদালতে সম্প্রতি এমনই এক চাঞ্চল্যকর বিবাহবিচ্ছেদের মামলা সামনে এসেছে, যা শুনে বিচারক থেকে শুরু করে আইনজীবীরাও স্তম্ভিত।
সাফল্যের পরেই মানসিকতায় বদল
পেশায় পুরোহিত এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) করার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করেছিলেন। স্ত্রীর পড়াশোনা থেকে শুরু করে নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে তিনি ছিলেন ছায়াসঙ্গী। কিন্তু চাকরি পাওয়ার পর থেকেই স্ত্রীর আচরণে আমূল পরিবর্তন আসে। বর্তমানে পুলিশ বিভাগে কর্মরত ওই মহিলার দাবি, তার স্বামীর সাধারণ জীবনযাত্রা এবং ঐতিহ্যবাহী পোশাক এখন তার পদমর্যাদার সঙ্গে মানানসই নয়।
অদ্ভুত অভিযোগ স্ত্রীর
বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনে ওই মহিলা জানিয়েছেন যে, তার স্বামীর টিকি (শিখা), ধুতি-কুর্তা পরা এবং ‘পণ্ডিতের মতো’ আচরণ তাকে সামাজিকভাবে অস্বস্তিতে ফেলে। তার মতে, স্বামীর এই সনাতনী চেহারা তার উচ্চপদস্থ অফিসার সত্তার জন্য মানহানিকর। তিনি স্বামীকে বারবার নিজের জীবনধারা ও পোশাক বদলানোর কথা বললেও স্বামী তাতে রাজি হননি। ফলে স্বামীর ‘পুরোহিত’ ভাবমূর্তি নিয়ে সংসার করতে তিনি নারাজ।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
ভোপাল পারিবারিক আদালতের আইনজীবী পরিহার জানিয়েছেন, এই ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অস্বাভাবিক। বিষয়টি মীমাংসার জন্য দম্পতিকে কয়েক দফা কাউন্সেলিং করানো হয়েছে। স্বামী এখনো সংসার টিকিয়ে রাখতে আগ্রহী হলেও, মহিলা নিজের সিদ্ধান্তে অনড়। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। আদালত সব দিক বিবেচনা করেই এই আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
এই ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানাজানি হতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যে মানুষটির ত্যাগ ও পরিশ্রমে আজকের এই সাফল্য, সেই মানুষটির পোশাক ও সংস্কৃতি কীভাবে বিচ্ছেদের কারণ হতে পারে?

