লেটেস্ট নিউজ

স্বামীকে খুনের পর নীলছবিতে মগ্ন স্ত্রী! লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

অন্ধ্রপ্রদেশ: দাম্পত্য কলহ যখন চরম সীমায় পৌঁছায়, তখন তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর জেলার দুগ্গিরালা মণ্ডলের চিলুমুরু গ্রামের ঘটনা তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। নিজের স্বামীকে বিষ খাইয়ে শ্বাসরোধ করে খুনের পর সারা রাত প্রেমিকের সঙ্গে পর্নোগ্রাফি বা নীলছবি দেখে সময় কাটানোর মতো এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক মহিলার বিরুদ্ধে। এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘিরে বর্তমানে গোটা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও দাম্পত্য বিবাদ

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চিলুমুরু গ্রামের বাসিন্দা লোকম নাগরাজু (৪৫)-এর সঙ্গে ২০০৭ সালে লক্ষ্মী মাধুরীর বিয়ে হয়। তাঁদের দুটি পুত্রসন্তান রয়েছে। নাগরাজু আগে বেসরকারি সংস্থায় কাজ করলেও গত কয়েক বছর ধরে পেঁয়াজের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। কিন্তু মাধুরী এই ব্যবসা পছন্দ করতেন না। অভাব-অনটনের জেরে মাধুরী বিজয়ওয়াড়ার একটি সিনেমা হল এবং পরে একটি বেসরকারি মলে কাজ শুরু করেন। সেখানেই সত্যেনপল্লীর বাসিন্দা গোপী নামক এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

নাগরাজুর পরিবারের অভিযোগ, গোপীর পরামর্শে নাগরাজুকে হায়দ্রাবাদে কার ট্রাভেলস সংস্থায় কাজে পাঠানো হয়। কিন্তু নাগরাজুর অনুপস্থিতিতে গোপী প্রায়ই চিলুমুরুতে এসে মাধুরীর সঙ্গে দেখা করতেন। বিষয়টি জানতে পেরে নাগরাজু হায়দ্রাবাদের কাজ ছেড়ে বাড়ি ফিরে আসেন এবং স্থানীয়ভাবে ছোট ব্যবসা শুরু করেন। এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চরমে পৌঁছায়। এমনকি তিন মাস আগে দুগ্গিরালা থানায় কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমেও তাঁদের বিবাদ মেটানো সম্ভব হয়নি।

খুনের নৃশংস পরিকল্পনা

পুলিশের কাছে নাগরাজুর বাবা গান্ধীর দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৮ জানুয়ারি রাতে মাধুরী অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় খুনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন। অভিযোগ, তিনি নাগরাজুর রাতের খাবারের সঙ্গে (বিরিয়ানি) ২০টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন। নাগরাজু গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে মাধুরী তাঁর প্রেমিক গোপীকে খবর দেন। এরপর দুজনে মিলে বালিশ চাপা দিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে শ্বাসরোধ করে নাগরাজুকে হত্যা করেন।

খুনের পর পর্নোগ্রাফি দেখার অভিযোগ

সবচেয়ে চমকে দেওয়ার মতো তথ্যটি উঠে এসেছে পুলিশি তদন্তে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, স্বামীকে খুন করার পর গোপী চলে গেলেও মাধুরী বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত ছিলেন না। বরং রাত ৪টে পর্যন্ত তিনি নিজের মোবাইলে নীলছবি বা পর্নোগ্রাফি দেখে সময় কাটান। ভোর হওয়ার পর তিনি প্রতিবেশীদের ঘুম থেকে ডেকে তুলে নাটক শুরু করেন এবং দাবি করেন যে তাঁর স্বামী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। তবে নাগরাজুর কান ও নাক দিয়ে রক্ত বের হতে দেখে সন্দেহ হয় পরিজনদের, যার ভিত্তিতেই পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পুলিশের বক্তব্য

দুগ্গিরালার সাব-ইন্সপেক্টর ভেঙ্কট রবি জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে স্পষ্ট হয়েছে যে নাগরাজুর বুকের হাড় ভাঙা ছিল এবং তাঁর মৃত্যু হয়েছে শ্বাসরোধের কারণে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে পুলিশ মাধুরীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে মাধুরী দাবি করেছেন যে, নাগরাজুই তাঁকে নীলছবি দেখার নেশা ধরিয়েছিলেন এবং তাঁকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করতেন।

ভিন্ন দাবি পরিবারের

অন্যদিকে, মাধুরীর মা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, “আমার মেয়েকে অকারণে বদনাম করা হচ্ছে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ ছিল ঠিকই, কিন্তু সে খুনি হতে পারে না। পুলিশি তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সংবাদমাধ্যম তাকে দোষী সাব্যস্ত করছে, যা অন্যায়।”

মঙ্গলগিরি রুরাল সিআই ভেঙ্কট ব্রহ্মম জানিয়েছেন, মূল অভিযুক্ত মাধুরী এবং তাঁর কথিত প্রেমিক গোপীকে পূর্ণাঙ্গ জিজ্ঞাসাবাদ করার পরেই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে। বর্তমানে ভারতীয় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *