স্মার্টফোন ও অনলাইন ক্লাসে রাশ! ডিজিটাল আসক্তি রুখতে কড়া দাওয়াই অর্থনৈতিক সমীক্ষায় – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: বর্তমানে ডিজিটাল আসক্তি কেবল শিশুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং কিশোর ও যুবকদের ছাড়িয়ে তা কর্মজীবী মানুষদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৫-২৬ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় (Economic Survey) এই ক্রমবর্ধমান সমস্যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সমীক্ষায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম, সোশ্যাল মিডিয়া এবং অনলাইন গেমিংয়ের ফলে মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও অবসাদ দ্রুত বাড়ছে।
পড়াশোনা ও কর্মক্ষেত্রে প্রভাব
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অতিরিক্ত ডিজিটাল নির্ভরতা সরাসরি পড়াশোনার গুণমান, মনোযোগ এবং কর্মক্ষেত্রের উৎপাদনশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কোভিড অতিমারির সময় অনলাইন ক্লাস জরুরি হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে অফলাইন শিক্ষা, খেলাধুলা এবং সামাজিক মেলামেশাকে পুনরায় অগ্রাধিকার দেওয়ার সময় এসেছে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছে সরকার।
বয়স ভিত্তিক কড়া নিয়ম ও সুপারিশ
ডিজিটাল আসক্তি কমাতে সমীক্ষায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে:
- বয়সের সীমাবদ্ধতা: সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন গেমিং এবং জুয়ার অ্যাপগুলোর ক্ষেত্রে বয়স ভিত্তিক কড়া নিয়ম চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
- কো ম্পা নিদের দায়বদ্ধতা: প্ল্যাটফর্মগুলোকে ইউজারদের বয়স যাচাই (Age Verification) এবং শিশুদের জন্য সুরক্ষিত ‘ডিফল্ট সেটিংস’ নিশ্চিত করতে হবে।
- ডিজিটাল কারিকুলাম: স্কুলগুলোতে ‘ডিজিটাল ওয়েলনেস’ পাঠ্যক্রম শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যেখানে স্ক্রিন টাইম ব্যালেন্স এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষা দেওয়া হবে।
- বিকল্প ব্যবস্থা: শিশুদের জন্য স্মার্টফোনের বদলে সাধারণ ফোন বা শুধুমাত্র পড়াশোনার জন্য সীমিত ফিচারের ট্যাবলেট ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
অভিভাবকদের ভূমিকা
রিপোর্টে অভিভাবকদের দায়িত্বের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। পরিবারগুলোকে বাড়িতে ‘ডিভাইস-ফ্রি’ সময় কাটানো এবং অফলাইন অ্যাক্টিভিটিতে সন্তানদের উৎসাহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক উদাহরণের কথা উল্লেখ করে সমীক্ষায় জানানো হয়েছে, এখনই সঠিক পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে ডিজিটাল আসক্তি জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক কাঠামোর জন্য বড় বিপদ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

