হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘোরা মানেই বিপদের সংকেত, হতে পারে এই গুরুতর রোগের লক্ষণ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
আপনি কি চেয়ার বা বিছানা থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘোরা অনুভব করেন? চোখের সামনে অন্ধকার নেমে আসে বা মনে হয় যেন এখনই পড়ে যাবেন? এমনটা হলে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেবেন না। এটি সাধারণ মনে হলেও এর পেছনে থাকতে পারে একটি গুরুতর ডাক্তারি কারণ।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন (Orthostatic Hypotension) বা পোশ্চারাল হাইপোটেনশন।
অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন আসলে কী?
যখন কোনো ব্যক্তি বসা বা শোয়া অবস্থা থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ান, তখন অভিকর্ষজ বলের কারণে শরীরের রক্ত পায়ের দিকে চলে যায়। স্বাভাবিক অবস্থায় শরীরের শিরা-উপশিরাগুলো সংকুচিত হয়ে এবং হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বজায় রাখে। কিন্তু যখন এই প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে কাজ করে না, তখন মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছাতে পারে না। ফলে মাথা ঘোরা, ঝাপসা দেখা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো অনুভূতি হয়।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
একজন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের (Neurologist) মতে, শরীরের ‘অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেম’ এই ভারসাম্য রক্ষা করে। যদি এর প্রতিক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, তবে উঠে দাঁড়ালেই মাথা ঘুরতে পারে। অন্যদিকে, পুষ্টিবিদদের মতে, শরীরে জল এবং ইলেকট্রোলাইটের অভাবও এই সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।
কেন বাড়ে এই ঝুঁকি?
- শরীরে জলের অভাব বা ডিহাইড্রেশন।
- রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া।
- দীর্ঘক্ষণ বিছানায় শুয়ে থাকা।
- নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
- বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতা কমে যাওয়া।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, উঠে দাঁড়ানোর এক মিনিটের মধ্যে যদি রক্তচাপ (Blood Pressure) দ্রুত কমে যায়, তবে ভবিষ্যতে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যদি কারো ক্ষেত্রে বারবার উঠে দাঁড়ানোর সময় মাথা ঘোরে, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা পড়ে যাওয়া, হাড় ভাঙা বা গুরুতর আঘাতের কারণ হতে পারে।
প্রতিরোধের উপায়
- হুট করে নয়, বরং ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ান।
- সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন।
- পায়ের হালকা ব্যায়াম করুন।
- পিচ্ছিল জায়গা এড়িয়ে চলুন।
- চিকিৎসকের সাথে কথা বলে বর্তমান ওষুধগুলো পুনরায় যাচাই করে নিন।
সঠিক সময়ে সচেতনতা এবং জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন এই সমস্যাকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

