হস্টেলের মেঝেতে অচৈতন্য ছাত্রী, স্কটিশ চার্চে তরুণীর রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: তিলোত্তমার বুকে ফের এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু। উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী স্কটিশ চার্চ কলেজের হস্টেল থেকে উদ্ধার হল ত্রিপুরা নিবাসী ২১ বছর বয়সী ঋষিতা বণিকের নিথর দেহ। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পঞ্চম সেমিস্টারের ওই ছাত্রীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, শরীরে বিষক্রিয়ার কারণেই এই মর্মান্তিক পরিণতি।
ঘটনার সূত্রপাত ও রহস্য
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, গত ২৩ জানুয়ারি রাতে হস্টেলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ঋষিতা। তড়িঘড়ি তাঁকে হস্টেলের ‘সিক রুমে’ নিয়ে যাওয়া হয়। পরের দিন অর্থাৎ ২৪ জানুয়ারি দুপুরে ঋষিতার মা ফোনে মেয়েকে না পেয়ে তাঁর রুমমেটকে খবর দেন। রুমমেট সিক রুমে গিয়ে দেখেন, ঋষিতা অচৈতন্য অবস্থায় মেঝেতে পড়ে রয়েছেন। তড়িঘড়ি তাঁকে আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ওইদিন সন্ধ্যায় চিকিৎসকরা ঋষিতাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ঘটনাটি ৩১ জানুয়ারি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বড়তলা থানার পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। তদন্তে উঠে এসেছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- বিষক্রিয়ার ইঙ্গিত: ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট না এলেও চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, শরীরে তীব্র বিষক্রিয়া ঘটেছিল।
- আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু: ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট মেলেনি। ছাত্রীটি নিজেই বিষ খেয়েছিলেন নাকি তাঁকে কিছু খাওয়ানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
- কর্তৃপক্ষের ভূমিকা: হস্টেলের সিক রুমে কেন নজরদারির অভাব ছিল এবং ২৪ ঘণ্টা ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ কেন নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
বর্তমানে ছাত্রীর পরিবার বা হস্টেল কর্তৃপক্ষ কারও বিরুদ্ধেই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে এক মেধাবী ছাত্রীর এই অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে কলেজ চত্বরে। পুরো ঘটনার সত্যতা জানতে পুলিশ হস্টেলের আবাসিক ও কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
