হাইওয়ের টোল প্লাজায় নগদ লেনদেন নিষিদ্ধ হচ্ছে, ১০ এপ্রিল থেকে বাধ্যতামূলক ফাস্ট্যাগ ও ইউপিআই
জাতীয় সড়কে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বড়সড় বদল আনতে চলেছে ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (NHAI)। আগামী ১০ এপ্রিল ২০২৬ থেকে দেশের কোনো জাতীয় সড়কের টোল প্লাজায় আর নগদে টাকা নেওয়া হবে না। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, টোল মেটানোর জন্য ফাস্ট্যাগ (FASTag) অথবা ইউপিআই (UPI) ব্যবহার করা এখন থেকে বাধ্যতামূলক। ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে শতভাগ নিশ্চিত করতে এবং টোল প্লাজায় যানবাহনের দীর্ঘ লাইন ও যানজট কমানোর লক্ষ্যেই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যাদের গাড়িতে বৈধ ফাস্ট্যাগ নেই, তারা ইউপিআই-এর মাধ্যমে টোল দিতে পারলেও গুনতে হবে বাড়তি টাকা। এক্ষেত্রে সাধারণ টোলের তুলনায় ১.২৫ গুণ বেশি খরচ হবে। এছাড়া কেউ যদি ডিজিটাল পেমেন্ট করতে অস্বীকার করেন, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে রাস্তা ব্যবহারের অনুমতি নাও দিতে পারেন। এমনকি নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের ই-নোটিস পাঠানো হবে এবং তিন দিনের মধ্যে জরিমানা না মেটালে সেই অঙ্ক দ্বিগুণ হয়ে যাবে। দিল্লি-মীরাট বা মুম্বই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ের মতো ব্যস্ততম রাস্তাগুলিতে এই নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে।
প্রথাগত আইডি কার্ড দেখিয়ে টোল ফাঁকি দেওয়ার দিনও এবার শেষ হতে চলেছে। সরকারি আধিকারিক বা প্রতিরক্ষা কর্মীদের ব্যক্তিগত যাতায়াতের ক্ষেত্রে কেবল পরিচয়পত্র দেখালে আর ছাড় মিলবে না। নিয়ম অনুযায়ী, ছাড় পাওয়ার যোগ্য গাড়িগুলিকে অবশ্যই ‘একজেম্পটেড ফাস্ট্যাগ’ বা অ্যানুয়াল পাস ব্যবহার করতে হবে। নিয়মিত যাত্রীদের জন্য ৩,০৭৫ টাকায় ফাস্ট্যাগ অ্যানুয়াল পাস কেনার সুযোগ রয়েছে, যা ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়েছে। এই পাসের মাধ্যমে অতিরিক্ত টোল ছাড়াই অসংখ্যবার যাতায়াত করা সম্ভব হবে।
ভবিষ্যতে ‘মাল্টি-লেন ফ্রি-ফ্লো টোলিং’ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার। যেখানে ক্যামেরা ও আরএফআইডি প্রযুক্তির মাধ্যমে গাড়ি না থামিয়েই টোল সংগ্রহ করা হবে। বর্তমানে দেশের ৯৮ শতাংশ টোল লেনদেন ডিজিটালি সম্পন্ন হলেও, ১০ এপ্রিল থেকে প্রশাসনিকভাবে নগদ লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে হাইওয়েতে যাতায়াতের আগে চালকদের ফাস্ট্যাগ ব্যালেন্স নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
