লেটেস্ট নিউজ

হাই কোর্টের সবুজ সংকেত নিয়ে বাংলায় বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা শুরু হচ্ছে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। একুশের মহারণে ঘাসফুল শিবিরকে কড়া টক্কর দিতে মরিয়া গেরুয়া ব্রিগেড। সেই লক্ষ্যেই রাজ্যজুড়ে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র ডাক দিয়েছে বিজেপি। তবে এই যাত্রার অনুমতি নিয়ে প্রশাসনের গড়িমসিতে জল গড়িয়েছিল আদালত পর্যন্ত। অবশেষে দীর্ঘ টানাপড়েন শেষে স্বস্তির খবর পেল বঙ্গ বিজেপি শিবির। শর্তসাপেক্ষে বিজেপির এই মেগা কর্মসূচি পালনের অনুমতি দিল কলকাতা হাই কোর্ট।

প্রশাসনের নীরবতা ও আদালতের হস্তক্ষেপ

নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই জনসংযোগ বাড়াতে পরিবর্তন যাত্রার পরিকল্পনা করেছিল বিজেপি। গত ২২ ফেব্রুয়ারি প্রশাসনের কাছে এই যাত্রার অনুমতি চেয়ে আবেদন জানানো হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো সদর্থক উত্তর মেলেনি। প্রশাসনের এই নীরবতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় বিজেপি নেতৃত্ব। শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের সিঙ্গেল বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। বিজেপির পক্ষ থেকে যাত্রার রুট ম্যাপ, জেলা এবং তারিখ সম্বলিত একটি তালিকা আদালতে পেশ করা হয়েছিল।

আদালতের বেঁধে দেওয়া কঠিন শর্তাবলী

বিজেপি ১ থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত তিন দিনের যাত্রার অনুমতি চেয়েছিল। তবে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ বিজেপির আবেদনে সাড়া দিলেও কিছু নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ১ থেকে ৩ মার্চের বদলে শুধুমাত্র ১ ও ২ মার্চ এই যাত্রা করা যাবে। এছাড়া ভিড় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও কড়া নির্দেশ দিয়েছে আদালত। জানানো হয়েছে, দুপুর ২টো থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে এই কর্মসূচি শেষ করতে হবে এবং কোনোভাবেই মিছিলে ১,০০০ জনের বেশি মানুষ থাকতে পারবেন না। আইন-শৃঙ্খলার অবনতি যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।

হেভিওয়েট নেতাদের মেলা ও রাজনৈতিক সমীকরণ

বিজেপির এই পরিবর্তন যাত্রাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আনাগোনা বাড়তে চলেছে রাজ্যে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন নবীন সহ একাধিক হেভিওয়েট নেতার এই যাত্রায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে এই যাত্রাকেই তুরুপের তাস করতে চাইছে বিজেপি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের এই অনুমতি বিজেপির জন্য বড় জয়। এখন দেখার বিষয়, মাত্র দু’দিনের এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে গেরুয়া শিবির।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *