হুইলচেয়ার থেকে সাফল্যের জাতীয় মঞ্চ, প্যারা পাওয়ারলিফটার মায়াভাইয়ের অদম্য লড়াই
শৈশবে পোলিওতে পা হারালেও হার মানেননি ২৭ বছর বয়সী মায়াভাই ভাম্মার। দারিদ্র্য ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে তিনি আজ এক সফল প্যারা পাওয়ারলিফটার। আহমেদাবাদের ব্লাইন্ড পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের (BPA) সহায়তায় নিজেকে দক্ষ করে তোলা মায়াভাই ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সিনিয়র ন্যাশনাল প্যারা পাওয়ারলিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপে ৪৯ কেজি বিভাগে ১১৫ কেজি ওজন তুলে রুপো জিতে দেশের নজর কেড়েছেন।
সাফল্যের এই পথ ছিল অত্যন্ত কঠিন। কৃষক পরিবারের সন্তান মায়াভাই পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেকে খেলার উপযোগী করতে কঠোর শৃঙ্খলা ও ডায়েট মেনে চলেন। এমনকি করোনাকালে জিম বন্ধ থাকলেও বাড়িতেই ইট ও সিমেন্ট দিয়ে ডাম্বেল বানিয়ে অনুশীলন চালিয়ে গেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ডিটিপি প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি জোম্যাটোর প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী ডেলিভারি পার্টনার হিসেবেও স্বনির্ভরতার নজির গড়েছেন।
মায়াভাইয়ের লক্ষ্য এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের হয়ে সোনা জেতা। বিশেষ ভাবে সক্ষম ব্যাটারিচালিত স্কুটারে করে খাবার পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে জাতীয় স্তরে পদক জয়— মায়াভাই প্রমাণ করেছেন যে প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকলে শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনোই উন্নতির পথে বাধা হতে পারে না। তাঁর এই হার না মানা জীবনযুদ্ধ আজ অগণিত মানুষের কাছে এক অনন্য অনুপ্রেরণা।

