হোটেলের ঘরে দম্পতির গোপনীয়তা লঙ্ঘন, ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ আদালতের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
চেন্নাই: হোটেলের ঘরে দম্পতির ব্যক্তিগত মুহূর্তে কর্মীদের অনধিকার প্রবেশ এবং গোপনীয়তা লঙ্ঘনের দায়ে এক নামী হোটেল কর্তৃপক্ষকে বিপুল অংকের জরিমানার নির্দেশ দিল আদালত। চেন্নাইয়ের জেলা উপভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি ফোরাম (উত্তর) এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
ঘটনাটি গত ২৬ জানুয়ারি, ২০২৫-এর। চেন্নাইয়ের এক দম্পতি রাজস্থানের উদয়পুরে একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল হোটেলে ঘর বুক করেছিলেন। দম্পতির অভিযোগ অনুযায়ী, তারা যখন বাথরুমে ছিলেন, তখন হোটেলের একজন হাউস-কিপিং কর্মী কোনো অনুমতি ছাড়াই মাস্টার কি (Master Key) ব্যবহার করে ঘরে ঢুকে পড়েন।
দম্পতিটি চিৎকার করে তাকে বেরিয়ে যেতে বললেও ওই কর্মী তাৎক্ষণিকভাবে ঘর ছাড়েননি। অভিযোগ উঠেছে যে, কোনো পরিষেবার প্রয়োজন নেই জানানো সত্ত্বেও ওই কর্মী দরজার ফাঁক দিয়ে বাথরুমে উঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেন। হোটেলের রিসেপশনে তৎক্ষণাৎ অভিযোগ জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি, যার ফলে ভুক্তভোগীরা আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ ও রায়
মামলার শুনানি শেষে উপভোক্তা আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, গ্রাহকদের গোপনীয়তা রক্ষা করা হোটেলের মৌলিক কর্তব্যের মধ্যে পড়ে, বিশেষ করে যখন সেখানে চড়া মূল্যের বিনিময় পরিষেবা নেওয়া হচ্ছে। হোটেলের পরিষেবায় গাফিলতি প্রমাণিত হওয়ায় আদালত নিম্নলিখিত নির্দেশগুলি দিয়েছে:
- ভাড়া ফেরত: ওই দম্পতিকে এক রাতের রুম ভাড়া বাবদ দেওয়া ৫৫,৫০০ টাকা ৯ শতাংশ সুদসহ ফেরত দিতে হবে।
- বিপুল ক্ষতিপূরণ: মানসিক হেনস্থা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের জন্য দম্পতিকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- আইনি খরচ: মামলার খরচ বাবদ অতিরিক্ত ১০,০০০ টাকা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হোটেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
আদালতের এই রায়ের প্রেক্ষিতে হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তারা সব সময় অতিথিদের নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দেয়। তবে চেন্নাই আদালতের এই রায় তারা পর্যালোচনা করে দেখছে এবং আগামীতে উচ্চ আদালতে আপিল করার মতো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে।

