১০ লক্ষের অপারেশনও ফ্রি! রোবোটিক সার্জারিতে ‘হাফ সেঞ্চুরি’ পিজি-র – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের চিকিৎসা পরিষেবায় এক অভাবনীয় মাইলফলক স্পর্শ করল এসএসকেএম বা পিজি হাসপাতাল। গত বছরের শেষার্ধ্বে যে আধুনিক যাত্রার সূচনা হয়েছিল, চলতি বছরের জানুয়ারির মধ্যেই রোবোটিক সার্জারিতে সাফল্যের ‘হাফ সেঞ্চুরি’ পূরণ করল এই সরকারি হাসপাতাল। ক্যান্সার থেকে হার্নিয়া— জটিল সব অস্ত্রোপচার এখন হচ্ছে রোবটের নিখুঁত ছোঁয়ায়, তাও আবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
আধুনিক চিকিৎসায় নয়া ইতিহাস
গত ২৩ সেপ্টেম্বর পিজি হাসপাতালে প্রথম রোবোটিক সার্জারির সূচনা হয়েছিল। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানেই ৫৫টি সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছেন চিকিৎসকরা। এর মধ্যে ৫৩টি হয়েছে খোদ পিজিতে এবং ২টি করা হয়েছে পিজির অধীনস্থ ‘অনন্য’ হাসপাতালে। জেনারেল সার্জারি, গাইনোকোলজি এবং ইউরোলজি— এই তিন বিভাগের ৬ জন প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের হাত ধরে এই সাফল্য এসেছে।
বিশিষ্ট সার্জন ডাঃ দীপ্তেন্দ্রকুমার সরকার জানিয়েছেন, রোবোটিক পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার অনেক বেশি নিখুঁত ও নিরাপদ। এতে রক্তপাত অত্যন্ত কম হয় এবং রোগীরা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। ক্যান্সার বাদে অন্যান্য সাধারণ অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে রোগীরা মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই বাড়ি ফিরতে পারছেন।
সাধারণের সাধ্যের মধ্যে বহুমূল্য পরিষেবা
শহরের নামী বেসরকারি বা কর্পোরেট হাসপাতালগুলিতে যে রোবোটিক সার্জারির খরচ ২ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে, পিজি হাসপাতালে সাধারণ মানুষ সেই পরিষেবা পাচ্ছেন সম্পূর্ণ নিখরচায়। সাড়ে ৬ কোটি টাকার রোবট এবং পরিকাঠামো মিলিয়ে প্রায় ৮ কোটি টাকার এই প্রকল্প এখন সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচানোর প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
সাফল্যের তালিকায় কী কী অপারেশন?
- ক্যান্সার সার্জারি: রেকটাল ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, প্রস্টেট ক্যান্সার, এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার।
- জটিল টিউমার: রেকারেন্ট রেট্রোপেরিটোনিয়াম সারকোমা (কিডনি ও কোলনের পিছনের ক্যান্সার)।
- সাধারণ অস্ত্রোপচার: গলব্লাডার স্টোন, হায়াটাল হার্নিয়া, জরায়ু বাদ দেওয়া (হিস্টেরেকটমি)।
- ইউরোলজিক্যাল সমস্যা: কিডনি ও ইউরেটারের ত্রুটি সংশোধন এবং কিডনি বাদ দেওয়া।
পিজি হাসপাতালের নতুন আউটডোর ভবনের পাঁচতলায় তৈরি অত্যাধুনিক রোবোটিক অপারেশন থিয়েটার এখন রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মুকুটে নতুন পালক যোগ করেছে। ব্যয়বহুল ও জটিল অস্ত্রোপচার সাধারণ মানুষের নাগালে এনে দিয়ে নজির গড়ল এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান।

