লেটেস্ট নিউজ

১০ হাজার টাকা দিলেই মিলবে ভোটার কার্ড! বাগদায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর নাম তোলার অডিও ভাইরাল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

উত্তর ২৪ পরগনার বাগদায় চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। মাথাপিছু ১০ হাজার টাকা দিলেই নাকি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর নাম উঠে যাবে ভোটার তালিকায় (SIR)। সম্প্রতি একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই বাগদা বিধানসভার বয়রা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগের তির সরাসরি বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও চন্দ্রকান্ত মণ্ডলের দিকে।

৫০ হাজার টাকার ডিল এবং চাঞ্চল্যকর অডিও

ভাইরাল হওয়া সেই অডিও ক্লিপে শোনা যাচ্ছে, জনৈক এক ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের নাম ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত করার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছেন বিএলও। ছয়জনের নাম তোলার বিনিময়ে মোট ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এমনকি জনৈক ব্যক্তিকে আশ্বস্ত করে বলা হচ্ছে যে, মাইক্রো অবজারভারের নাম করে এই টাকা দিতে হবে। অভিযোগ উঠেছে, যে পরিবারের থেকে এই টাকা চাওয়া হয়েছে তারা আদতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এবং সম্প্রতি সীমান্ত পার করে এদেশে এসেছেন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ওই পরিবারের কারও নাম না থাকলেও ঘুরপথে তাদের ভারতীয় পরিচয়পত্র পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।

অভিযুক্তের সাফাই ও প্রশাসনের পদক্ষেপ

অভিযুক্ত চন্দ্রকান্ত মণ্ডল পেশায় বয়রা ঝাউখালি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। এই ঘটনা জানাজানি হতেই বাগদার প্রাক্তন বিধায়ক দুলাল বর জেলাশাসক, মহকুমা শাসক এবং বিডিওর কাছে ইমেলের মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চন্দ্রকান্ত বাবু। তাঁর দাবি, প্রযুক্তির কারসাজি করে তাঁর কণ্ঠস্বর নকল করা হয়েছে এবং তাঁকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার বানানো হচ্ছে। তাঁর বাবাও দাবি করেছেন যে, তাঁর ছেলেকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হয়েছে।

তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের প্রশ্রয় ছাড়া একজন সরকারি কর্মীর পক্ষে এমন দুঃসাহসিক কাজ করা আসাম্ভব। অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় ঢুকিয়ে ভোটব্যাঙ্ক মজবুত করার লক্ষ্যেই এই কারসাজি চলছে বলে গেরুয়া শিবিরের দাবি। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা তথা বাগদা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তরুণ ঘোষ বলেন, “আমাদের সরকার কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। যদি কেউ দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিজেপি এলাকায় অস্তিত্ব হারিয়ে এখন ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে বাজার গরম করার চেষ্টা করছে।”

আপাতত ওই অডিও ক্লিপের সত্যতা যাচাই করেনি প্রশাসন, তবে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ভোটার তালিকায় নাম তোলা নিয়ে এই ধরণের অভিযোগ আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তদন্ত শুরু হলে এই চক্রের পেছনে আর কারা জড়িত, তা স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *