১২ বছরের পুরনো ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি! পুষ্টিবিদের এই ৩টি টোটকায় ফিরবে সুস্থ জীবন – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বর্তমান যুগে অনিয়মিত জীবনযাত্রা এবং ত্রুটিপূর্ণ খাদ্যাভ্যাসের কারণে ডায়াবেটিস বা মধুমেহ মহামারি আকার ধারণ করেছে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেকের কাছেই এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে পুষ্টিবিদ ডক্টর হর্ষিতা কৌশিকের পরামর্শ মেনে মাত্র তিনটি সহজ অভ্যাসের মাধ্যমে এই রোগকে হারানো সম্ভব। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, তাঁর এক ৪২ বছর বয়সী রোগী, যিনি গত ১২ বছর ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন, এই নিয়মগুলি মেনে এখন সম্পূর্ণ ওষুধমুক্ত জীবন কাটাচ্ছেন।
দীর্ঘস্থায়ী ডায়াবেটিস রিভার্স করার সেই জাদুকরী তিন উপায় নিচে আলোচনা করা হলো:
১. রাতের খাবারে প্রোটিন ও ফাইবারের প্রাধান্য
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য রাতের খাবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদের মতে, ডিনারে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমিয়ে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং ফাইবার রাখা জরুরি। রাতের মেনুতে নিয়মিত সয়াবিন সালাদ, কালো ছোলার চাট কিংবা অঙ্কুরিত মুগ ডালের সালাদ যোগ করুন। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া রোধ করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে।
২. সঠিক সময়ে ডিনার ও সান্ধ্যকালীন হাঁটা
খাবার খাওয়ার সময়ের ওপর শরীরের মেটাবলিজম অনেকাংশে নির্ভর করে। পুষ্টিবিদের পরামর্শ হলো, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে রাতের খাবার শেষ করার চেষ্টা করুন। খাবার খাওয়ার পর অলসভাবে বসে না থেকে অন্তত ১০-১৫ মিনিট ধীরগতিতে হাঁটাহাঁটি করুন। এই সাধারণ অভ্যাসটি ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়াতে এবং সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভাবনীয় সাহায্য করে।
৩. জাদুকরী আয়ুর্বেদিক ভেষজ ‘গুড়মার’
এই ডায়াবেটিস রিভার্সাল প্রক্রিয়ার সবচেয়ে কার্যকর অংশ হলো ‘গুড়মার’ (Gymnema Sylvestre) নামক একটি আয়ুর্বেদিক ভেষজ। আয়ুর্বেদে একে ‘চিনি নাশক’ বলা হয়। ডক্টর হর্ষিতা তাঁর রোগীকে প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর ৩০ মিনিট আগে ‘গুড়মার চা’ পান করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এটি জিহ্বায় মিষ্টি স্বাদ গ্রহণের ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন উৎপাদনে উদ্দীপনা জোগায়। ফলে প্রাকৃতিক নিয়মেই রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসে।
জীবনযাত্রায় এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো আনলে দীর্ঘদিনের পুরনো ডায়াবেটিসও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তবে যেকোনো নতুন খাদ্যাভ্যাস বা ভেষজ শুরুর আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

