১২ বছরের শিশুদের হাতেও কি এবার এআইয়ের জাদু? কেন এই বয়সেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শেখা জরুরি – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বর্তমান যুগে প্রযুক্তি যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে আগামী দিনে টিকে থাকতে হলে শুধু বইখাতা আর কলম যথেষ্ট নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এখন আর কেবল বড়দের আলোচনার বিষয় নয়, বরং এটি হয়ে উঠছে শিশুদের ভবিষ্যতের প্রধান হাতিয়ার। কিন্তু প্রশ্ন হলো, মাত্র ১২ বছর বয়সেই কেন শিশুদের এআই শেখানো প্রয়োজন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বয়সে হাতেকলমে প্রযুক্তি শিক্ষা শিশুদের চিন্তার জগতকে আমূল বদলে দিতে পারে।
কেন ১২ বছর বয়সেই শুরু হবে এআই পাঠ?
প্রযুক্তির এই আধুনিক সময়ে শিশুদের জন্য এআই শেখার গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে এর কয়েকটি বিশেষ দিক তুলে ধরা হলো:
- ভবিষ্যতের প্রযুক্তির সঙ্গে মেলবন্ধন: আগামীর পৃথিবী হবে সম্পূর্ণভাবে এআই নির্ভর। তাই শৈশব থেকেই এই প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিতি শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য এক কদম এগিয়ে রাখবে।
- জটিল সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা: এআই শেখার মাধ্যমে শিশুরা যে কোনো সমস্যাকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে তা সমাধানের কৌশল আয়ত্ত করতে পারে। এটি তাদের বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ করে তোলে।
- যৌক্তিক চিন্তাভাবনার বিকাশ: কোডিং এবং অ্যালগরিদম শেখার ফলে শিশুদের মধ্যে লজিক্যাল বা যুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তারা কোনো কিছু অন্ধভাবে না শিখে তার পেছনের কারণ বুঝতে চেষ্টা করে।
- সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবন: এআই ব্যবহার করে নতুন নতুন প্রজেক্ট তৈরি বা উদ্ভাবনী আইডিয়া নিয়ে কাজ করার সুযোগ পায় শিশুরা। এতে তাদের ভেতরের সৃজনশীলতা বিকশিত হয়।
- কোডিং ও রোবোটিক্সের হাতেখড়ি: এআই শিক্ষার হাত ধরেই কোডিংয়ের মজবুত ভিত্তি তৈরি হয়। যা পরবর্তীকালে তাদের রোবোটিক্স কিংবা গেম ডেভেলপমেন্টের মতো রোমাঞ্চকর বিষয়ে পারদর্শী করে তোলে।
- স্মার্ট পড়াশোনা: পড়াশোনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্মার্ট এআই টুল ব্যবহার করে তারা দ্রুত এবং কার্যকরভাবে শিখতে পারে। এটি তাদের প্রথাগত মুখস্থ বিদ্যার বাইরে গিয়ে শেখার আনন্দ দেয়।
- প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার: ইন্টারনেটের যুগে প্রযুক্তি ব্যবহারের যেমন সুবিধা আছে, তেমনি ঝুঁকিও রয়েছে। এআই শেখার মাধ্যমে শিশুরা প্রযুক্তিকে নিরাপদ ও নৈতিকভাবে ব্যবহার করার শিক্ষা পায়।
- ক্যারিয়ারের আগাম প্রস্তুতি: বর্তমানে প্রায় প্রতিটি পেশায় এআই-এর প্রভাব বাড়ছে। শৈশব থেকে এই শিক্ষা থাকলে ভবিষ্যতে যে কোনো পেশাতেই তারা নিজেদের সেরা হিসেবে প্রমাণ করতে পারবে।
সহজ কথায় বলতে গেলে, আজকের শিশুদের উদ্ভাবনী শক্তি এবং সৃজনশীলতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এআই শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এটি কেবল একটি বিষয় নয়, বরং আগামীর পৃথিবীতে স্মার্টলি বেঁচে থাকার অন্যতম প্রধান দক্ষতা।

