লেটেস্ট নিউজ

১৫০ বছরে প্রথমবার! ২০২৭-এর ডিজিটাল জনগণনায় ৩০ লক্ষ কর্মীর ‘মহাযজ্ঞ’, খরচ হচ্ছে ১১,৭১৮ কোটি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দেশের জনসংখ্যা গণনায় এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারত সরকার। ২০২৭ সালের জনগণনার জন্য ১১,৭১৮ কোটি টাকার বিশাল বাজেট অনুমোদন করেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। ভারতের ১৫০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

১ মার্চ ২০২৭: ঠিক হবে ভারতের ভাগ্য

২০১১ সালের পর দীর্ঘ ব্যবধানে এই জনগণনা হতে চলেছে। ২০২১ সালে হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। ২০২৭ সালের ১ মার্চের মধ্যরাতের সময়কে ভিত্তি করে দেশের প্রকৃত জনসংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। এটি স্বাধীন ভারতের অষ্টম এবং সামগ্রিকভাবে দেশের ১৬তম জনগণনা।

দুই পর্যায়ে বিশাল কর্মযজ্ঞ

পুরো প্রক্রিয়াটিকে দুটি সুনির্দিষ্ট পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে:

  • প্রথম পর্যায় (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর ২০২৬): এই সময়ে সারা দেশের বাড়ির সংখ্যা, সেগুলির অবস্থা এবং উপলব্ধ সুযোগ-সুবিধার বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হবে। রাজ্যগুলি তাদের সুবিধামতো ৩০ দিনের একটি সময়সীমা বেছে নিতে পারবে।
  • দ্বিতীয় পর্যায় (ফেব্রুয়ারি ২০২৭): মূল জনসংখ্যা গণনা হবে এই সময়ে। তবে লাদাখ, জম্মু ও কাশ্মীর এবং হিমাচলের মতো বরফঢাকা দুর্গম অঞ্চলে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সমীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ডিজিটাল বিপ্লব ও মোবাইল অ্যাপ

এবারের জনগণনায় কাগজ-কলমের বদলে ব্যবহৃত হবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি:

  • তথ্য সংগ্রহের জন্য বিশেষ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করবেন কর্মীরা।
  • সাধারণ মানুষ চাইলে অনলাইনে নিজেরাই ফর্ম পূরণ করতে পারবেন।
  • বাড়ির সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করতে থাকছে উন্নত ওয়েব ম্যাপ টুল
  • রিয়েল-টাইম আপডেটের ফলে তথ্যে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় থাকবে না।

প্রথমবারের মতো ডিজিটাল জাতি-শুমারি

সামাজিক নীতি নির্ধারণের লক্ষ্যে ২০২৭ সালের জনগণনায় জাতির তথ্যও সংগ্রহ করা হবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে জাতির তথ্য রেকর্ড করা স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম। গ্রাম থেকে মেট্রো শহর—সর্বত্র সচেতনতা বাড়াতে বড়সড় প্রচার অভিযান চালানো হবে।

১ কোটির বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ

এই অপারেশনটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ফিল্ড অপারেশন হতে চলেছে। প্রায় ৩০ লক্ষ কর্মী সরাসরি এই কাজে যুক্ত থাকবেন, যাদের মধ্যে বড় অংশই হলেন সরকারি স্কুলের শিক্ষক। এছাড়া ১৮,৬০০ জনের একটি কারিগরি দল টানা ৫৫০ দিন সিস্টেমটি পরিচালনা করবে। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, পুরো প্রক্রিয়ার ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১.০২ কোটি কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

আধুনিক প্রযুক্তি আর বিশাল বাজেটের এই মেলবন্ধনে ২০২৭-এর জনগণনা ভারতের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নতুন নজির গড়তে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *