১৫ আগস্ট ও ২৬ জানুয়ারি: জাতীয় পতাকা উত্তোলনের এই তফাতগুলো জানেন কি? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
শৈশবে সাদা পোশাক পরে স্কুলে যাওয়া, জাতীয় পতাকাকে স্যালুট জানানো আর অনুষ্ঠান শেষে হাতে পাওয়া সেই লজেন্স— স্বাধীনতা দিবস এবং প্রজাতন্ত্র দিবস নিয়ে আমাদের প্রত্যেকের মনেই জড়িয়ে আছে অজস্র মধুর স্মৃতি। আজও যখন তেরঙা পতাকা আকাশে ডানা মেলে, তখন গর্বে বুক ভরে ওঠে প্রতিটি ভারতীয়র। কিন্তু আপনি কি কখনও খেয়াল করেছেন, ১৫ আগস্ট এবং ২৬ জানুয়ারি পতাকা উত্তোলনের পদ্ধতি ও নিয়ম সম্পূর্ণ আলাদা?
২০২৬ সালে দেশ যখন তার ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করতে চলেছে, তখন একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এই দুই বিশেষ দিনের সাংবিধানিক ও প্রযুক্তিগত পার্থক্যগুলো জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
১. পতাকা উত্তোলন (Hoisting) বনাম উন্মোচন (Unfurling)
অনেকেই মনে করেন দুটি দিনেই পতাকা ওড়ানোর প্রক্রিয়া একই, কিন্তু বাস্তবে এর পেছনে গভীর ঐতিহাসিক ও সাংবিধানিক অর্থ লুকিয়ে রয়েছে:
- ১৫ আগস্ট (Flag Hoisting): স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকাটি দণ্ডের নিচের দিকে বাঁধা থাকে। দড়ি টেনে সেটিকে নিচ থেকে উপরে তোলা হয় এবং তারপর উত্তোলন করা হয়। একে বলা হয় ‘ফ্ল্যাগ হোয়েস্টিং’ বা পতাকোত্তোলন। এটি ব্রিটিশ শাসনের অবসান এবং ইউনিয়ন জ্যাক নামিয়ে ভারতের তেরঙা পতাকা উপরে তোলার মাধ্যমে একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয়কে প্রতীকায়িত করে।
- ২৬ জানুয়ারি (Flag Unfurling): প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন পতাকাটি আগেই দণ্ডের উপরিভাগে ভাঁজ করে বাঁধা থাকে। শুধুমাত্র দড়ি টেনে সেই ভাঁজ খুলে পতাকাটি ওড়ানো হয়। একে বলা হয় ‘ফ্ল্যাগ আনফার্লিং’ বা পতাকা উন্মোচন। এর অর্থ হলো ভারত ইতিমধ্যেই একটি স্বাধীন রাষ্ট্র এবং সংবিধান কার্যকরের মাধ্যমে একটি প্রজাতন্ত্রের যুগে পদার্পণ করেছে।
২. প্রধানমন্ত্রী নাকি রাষ্ট্রপতি? কার হাতে থাকে সম্মান
প্রোটোকল অনুযায়ী, পতাকা কে উত্তোলন করবেন তারও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে:
- স্বাধীনতা দিবস (১৫ আগস্ট): এই দিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী দিল্লির লালকেল্লায় পতাকা উত্তোলন করেন। ১৯৪৭ সালে যখন ভারত স্বাধীন হয়, তখন দেশের সংবিধান কার্যকর হয়নি এবং রাষ্ট্রপতির পদও সৃষ্টি হয়নি। সেই সময় প্রধানমন্ত্রীই ছিলেন দেশের প্রধান নির্বাহী।
- প্রজাতন্ত্র দিবস (২৬ জানুয়ারি): এই বিশেষ দিনে দেশের রাষ্ট্রপতি ‘কর্তব্য পথ’-এ (পূর্বতন রাজপথ) পতাকা উন্মোচন করেন। কারণ রাষ্ট্রপতি হলেন দেশের সাংবিধানিক প্রধান (Constitutional Head)। ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন।
৩. অনুষ্ঠানের স্থান ও তাৎপর্য
- স্থান: স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানটি পালিত হয় ঐতিহাসিক লালকেল্লায়। অন্যদিকে, প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল আকর্ষণ হলো ‘কর্তব্য পথ’, যেখানে বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজ ও সাংস্কৃতিক শোভাযাত্রা প্রদর্শিত হয়।
- মূল বার্তা: ১৫ আগস্ট আমাদের ব্রিটিশ শাসন থেকে ‘মুক্তি’র কথা মনে করিয়ে দেয়। অপরদিকে, ২৬ জানুয়ারি আমাদের ‘আইন ও গণতন্ত্র’ এবং সংবিধানের শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। এই দিনেই ১৯৫০ সালে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সার্বভৌম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল।

