১৭ বছরের ছেলের শেষকৃত্য করছিলেন বাবা, অঙ্গদানে বাঁচল ৬ জনের জীবন

১৭ বছরের ছেলের শেষকৃত্য করছিলেন বাবা, অঙ্গদানে বাঁচল ৬ জনের জীবন

শোকের কালো মেঘের মাঝেও মানবিকতার অনন্য নজির গড়ল এক পরিবার। ১৭ বছর বয়সী কিশোর কৃষ আকবরির অকালপ্রয়াণে যখন গোটা পরিবার ভেঙে পড়েছে, ঠিক তখনই তার অঙ্গদানের মাধ্যমে নতুন জীবন ফিরে পেলেন ৬ জন মুমূর্ষু রোগী। আমদাবাদের এই ঘটনাটি সাধারণ মানুষের কাছে ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র কৃষ যখন বাইকে করে পড়তে যাচ্ছিল, তখন পথে নীলগাইয়ের সাথে আকস্মিক সংঘর্ষে সে মারাত্মকভাবে আহত হয়। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টার পরও তাকে ফেরানো সম্ভব হয়নি এবং শেষ পর্যন্ত তাকে ‘ব্রেন ডেথ’ ঘোষণা করা হয়।

মৃত কিশোরের বাবা পেশায় একজন চিকিৎসক হওয়ায় পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে দ্রুত অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেন। কৃষের হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপিত হয়েছে ভাবনগরের এক ১৩ বছরের কিশোরের শরীরে। এছাড়াও তার ফুসফুস, দুটি কিডনি, কর্নিয়া এমনকি হাত পর্যন্ত প্রতিস্থাপন করা হয়েছে বিভিন্ন শহরের রোগীদের দেহে। অভাবনীয় বিষয় হলো, যখন শ্মশানে কৃষের শেষকৃত্য সম্পন্ন হচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই অন্য এক কিশোরের বুকে ধুকপুক করে উঠছিল কৃষের হৃদপিণ্ড। শোকার্ত পিতার কথায়, “আমার সন্তান অন্য ছ’জনের মাধ্যমে এখনও এই পৃথিবীতে বেঁচে আছে।”

এই জটিল প্রক্রিয়াটি সফল করতে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে বেসরকারি ক্ষেত্রে হাত প্রতিস্থাপনের মতো বিরল অস্ত্রোপচার এই ঘটনাকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। অঙ্গদানের এই মহৎ সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন ছয়টি পরিবারকে নতুন আশার আলো দেখিয়েছে, অন্যদিকে সমাজের কাছে পৌঁছে দিয়েছে এক জোরালো বার্তা। প্রিয়জনকে হারানোর গভীর যন্ত্রণার মধ্যেও কীভাবে অন্যের মুখে হাসি ফোটানো যায়, আকবরি পরিবার আজ তারই এক উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে রইল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *