১ মার্চ থেকে বদলে যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের নিয়ম, ফোনে সিম না থাকলে আর চলবে না মেসেজিং অ্যাপ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য ধেয়ে আসছে এক বড়সড় পরিবর্তন। আগামী ১ মার্চ থেকে মেসেজিং দুনিয়ায় কার্যকর হতে চলেছে এক কঠোর নিয়ম। এখন থেকে আপনার স্মার্টফোনে সংশ্লিষ্ট সিমকার্ডটি সক্রিয় অবস্থায় থাকলেই কেবল সেই নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ, সিমকার্ড ছাড়া শুধুমাত্র ওয়াইফাই বা অন্য কোনো উপায়ে অ্যাকাউন্ট সচল রাখার দিন ফুরিয়ে আসছে।
ভারত সরকারের টেলিকমিউনিকেশন দপ্তর (ডিওটি) গত ২৮ নভেম্বর এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল। কেন্দ্র পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিল, মেটা-র মালিকানাধীন এই অ্যাপটিকে ‘সিম-বাইন্ডিং’ প্রযুক্তি গ্রহণ করতেই হবে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কোনোভাবেই এই নিয়মে আপস করা হবে না বলে বুধবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় টেলিকমমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। তাঁর মতে, সিমকার্ড ছাড়াই মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে অপরাধমূলক কাজ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, যা দেশের সুরক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ।
কী কী বদল আসছে আপনার হোয়াটসঅ্যাপে?
- সিম থাকা বাধ্যতামূলক: ১ মার্চ থেকে হোয়াটসঅ্যাপ খুলতে গেলে আপনার ফোনের স্লটে সেই নির্দিষ্ট সিমকার্ডটি থাকতেই হবে। সিম খুলে রেখে বা অন্য ফোনে সিম রেখে সেই নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ চালানো যাবে না।
- হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা: যারা ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব ব্যবহার করেন, তাদের জন্য নিয়ম আরও কঠিন হচ্ছে। একটানা দীর্ঘক্ষণ ওয়েব ভার্সন ব্যবহার করা যাবে না। প্রতি ৬ ঘণ্টা অন্তর এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লগ আউট হয়ে যাবে। পুনরায় ব্যবহারের জন্য ফোনের কিউআর কোড স্ক্যান করতে হবে, যার জন্য ফোনে সিম থাকা জরুরি।
- অন্যান্য অ্যাপেও প্রভাব: কেন্দ্রের এই নির্দেশিকা কেবল হোয়াটসঅ্যাপ নয়, বরং টেলিগ্রাম এবং সিগনালের মতো জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্যও প্রযোজ্য।
কেন এই কড়াকড়ি?
কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, ভুয়া অ্যাকাউন্ট এবং সিমহীন ডিভাইসের মাধ্যমে সাইবার অপরাধের মাত্রা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। অপরাধীরা অনেক সময় সিমকার্ড ছাড়াই মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এই ফাঁকফোকর বন্ধ করতেই ‘সিম-বাইন্ডিং’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
যদিও এই নিয়মের বিরোধিতা করেছিল মেটা। তাদের যুক্তি ছিল, বিদেশে ভ্রমণে গেলে বা সেকেন্ডারি ফোন ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম চরম অসুবিধার সৃষ্টি করবে। কিন্তু সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ব্যবহারকারীর স্বাচ্ছন্দ্যের চেয়ে জাতীয় নিরাপত্তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যেই হোয়াটসঅ্যাপের বিটা ভার্সনে এই প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়ে গিয়েছে। ফলে ২৮ ফেব্রুয়ারির ডেডলাইন শেষ হতেই ১ মার্চ থেকে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এই নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর হয়ে যাবে।

