লেটেস্ট নিউজ

২০২৬ সালেও রাশিয়া থেকে তেল কেনা বজায় রাখবে ভারত, ব্যর্থ আমেরিকার চাপ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নয়াদিল্লি: বিশ্ব রাজনীতি ও বাণিজ্যের জটিল সমীকরণের মাঝেও নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। ইটি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালেও রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা অব্যাহত রাখবে নয়াদিল্লি। সস্তা তেলের যোগান এবং দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতেই এই সিদ্ধান্ত।

আমেরিকার চাপ উপেক্ষা করে অনড় ভারত

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে পশ্চিমী দেশগুলি মস্কোর ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা চাপালেও ভারত তা উপেক্ষা করেছে। আমেরিকা একাধিকবার ভারতকে সতর্ক করলেও রুশ তেলের আমদানিতে তার স্থায়ী প্রভাব পড়েনি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, রাশিয়ার তেলের সরবরাহ প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল।

কেন রাশিয়ার তেল ভারতের জন্য জরুরি?

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জের। রাশিয়ার থেকে ডিসকাউন্টে তেল পাওয়ায় ভারতের আমদানি বিল কয়েক বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরে পেট্রোল-ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য ও বৈচিত্র্যময় বাজার

আমেরিকার সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখতে ভারত ইরাক, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি থেকেও তেল কেনা বাড়িয়েছে। বর্তমানে ভারতের তেল আমদানির উৎস ২৭টি দেশ থেকে বেড়ে ৪০টিরও বেশি হয়েছে। তবে আইওসি (IOC) বা বিপিসিএল (BPCL)-এর মতো সরকারি সংস্থা এবং বেসরকারি রিফাইনারিগুলো এখনও রুশ তেলের ওপরেই বেশি ভরসা রাখছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের রিফাইনিং ক্ষমতা ব্যাপক বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ফলে তেলের চাহিদাও বাড়বে। আমেরিকার সঙ্গে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি (Trade Deal) ভবিষ্যতে সমীকরণ কিছুটা বদলালেও, বর্তমানে রাশিয়ার সস্তা তেলের বিকল্প দেখা যাচ্ছে না। ফলে রুশ তেল পুরোপুরি বর্জন করা ভারতের জন্য ব্যবহারিক বা লাভজনক— কোনোটিই নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *