২০৩০ থেকেই কি ভারতের হাতে আসছে আরও বিধ্বংসী রাফাল? অত্যাধুনিক F5 ভার্সন নিয়ে তোলপাড় প্রতিরক্ষা মহল – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তিবৃদ্ধিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে। প্রতিরক্ষা সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মার্চ মাস থেকেই ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে আসতে শুরু করবে ১৮টি নতুন রাফাল যুদ্ধবিমান। ফ্রান্সের মাটি থেকে তৈরি হয়ে আসা এই বিমানগুলো হবে অত্যন্ত আধুনিক ‘F4’ স্ট্যান্ডার্ডের। তবে চমকের এখানেই শেষ নয়, এই মেগা ডিলের আসল তুরুপের তাস হতে চলেছে রাফালের পরবর্তী প্রজন্মের ‘F5’ ভার্সন।
ড্রোন নিয়ন্ত্রণ করবে যুদ্ধবিমান: কেন অপ্রতিরোধ্য এই F5 ভার্সন?
রাফালের F5 ভার্সনটিকে বলা হচ্ছে ভবিষ্যতের আকাশযুদ্ধের ‘মাদার এয়ারক্রাফট’। ২০৩০ থেকে ২০৩২ সালের মধ্যে এটি যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবে। এর সবথেকে বড় বিশেষত্ব হলো, এটি মাঝ আকাশে ওড়ার সময় একঝাঁক উন্নত ড্রোনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। অর্থাৎ পাইলট একাই একটি ছোট ড্রোন বাহিনীকে নির্দেশ দিয়ে শত্রুপক্ষের ডেরায় হামলা চালাতে পারবেন। এছাড়াও এই ভার্সনে থাকছে ২০ শতাংশ বেশি শক্তিশালী ইঞ্জিন, যা আগের চেয়ে অনেক বেশি গতি এবং মারণক্ষমতা দেবে।
ভারতের আকাশে বড় বদল: ১১৪টি বিমানের মেগা ডিল
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ‘ডিফেন্স অ্যািশন কাউন্সিল’ (DAC) ৩.৬০ লক্ষ কোটি টাকার অস্ত্র ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকাই বরাদ্দ হয়েছে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমানের জন্য। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুরুর দিকের ৯০টি বিমান F4 স্ট্যান্ডার্ডের হলেও শেষের ২৪টি বিমান হতে পারে সরাসরি F5 ভার্সনের। এমনকি বায়ুসেনার বর্তমান ৩৬টি রাফালকেও (F3R ভার্সন) ভবিষ্যতে F5-এ আপগ্রেড করার সুযোগ থাকছে এই চুক্তিতে।
মেড ইন ইন্ডিয়া বনাম মেড ইন ফ্রান্স
প্রাথমিক ১৮টি বিমান ফ্রান্স থেকে এলেও, ২০৩১ সালের শেষ বা ২০৩২-এর শুরু থেকে ভারতে তৈরি রাফালগুলো হাতে পাওয়া শুরু হবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি প্রযুক্তিগত সমন্বয় ঠিক থাকে, তবে ভারত F4 ভার্সনের বিমানের সংখ্যা কিছুটা কমিয়ে আরও বেশি সংখ্যক সর্বাধুনিক F5 বিমান নেওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। এর ফলে চীনের জে-২০ বা পাকিস্তানের যেকোনো জেটের মোকাবিলায় ভারতীয় বায়ুসেনা কয়েক কদম এগিয়ে থাকবে।

