২০৩৬ সালের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী হবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড় রাজনীতি

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আবহে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা উস্কে দিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, ২০৩৬ সালের মধ্যেই রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করতে চলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে অভিষেক নিজেকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করে তুলেছেন এবং সময়ের ব্যবধানে এই উত্তরণ এখন কেবল আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। তৃণমূলের অন্দরে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ যে আধুনিক রাজনীতির ধারা প্রবর্তন করেছেন, তাকেই ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের চাবিকাঠি বলে মনে করছেন তিনি।
দলের অভ্যন্তরীণ কাঠামো সংস্কারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদানের কথা বলতে গিয়ে কুণাল ঘোষ আবেগ ও পেশাদারিত্বের এক মেলবন্ধনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেগাশ্রিত রাজনীতির সঙ্গে অভিষেক আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি এবং ‘মডার্ন ম্যানেজমেন্ট’ যুক্ত করেছেন। বিশেষ করে বুথ স্তরের সমীক্ষা, ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং বৈজ্ঞানিক প্রচার কৌশল ব্যবহারের মাধ্যমে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তিকে তিনি অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিষেকের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং কর্পোরেট ধাঁচে দল পরিচালনার দক্ষতা তৃণমূলকে আরও সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী করে তুলেছে।
কুণাল ঘোষের মতে, গত ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা একটি দলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব তৈরি করার প্রধান কারিগর হলেন অভিষেক। যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন থেকে শুরু করে টিকিট বণ্টন—সব ক্ষেত্রেই এখন তাঁর আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০৩৬ সালের নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করে কুণাল ঘোষ জোর দিয়ে বলেন যে, অভিষেক বর্তমানে তৃণমূলের প্রতিটি স্তরের কর্মীদের কাছে এক অপরিহার্য নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যারিশমা এবং অভিষেকের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার এই জুটিই দলকে আগামী প্রজন্ম পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদী।
রাজ্যে যখন বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে কুণাল ঘোষের এই মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে দলের নিরঙ্কুশ সংহতির বার্তা দেওয়া, অন্যদিকে আগামীর রূপরেখা স্পষ্ট করে সাধারণ ভোটার ও কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি করাই এই দাবির মূল লক্ষ্য হতে পারে। তবে নির্বাচনের ঠিক মুখে ‘মুখ্যমন্ত্রী বদল’ সংক্রান্ত এই দাবি বিরোধীদের কোনো বাড়তি সুবিধা দেবে কি না, তা নিয়ে বর্তমানে বিশেষজ্ঞ মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে, অভিষেকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কুণাল ঘোষের এই ভবিষ্যদ্বাণী বঙ্গ রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিল।
