২৬-এর নির্বাচনের আগে শাহী মাস্টারপ্ল্যান, মায়াপুরে ইসকন ও গৌড়ীয় মঠকে একসূত্রে বাঁধার প্রয়াস
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলার রাজনীতিতে ধর্মীয় মেরুকরণ ও আধ্যাত্মিক সংযোগ স্থাপনে বড়সড় পদক্ষেপ নিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বুধবার মায়াপুর ইসকনে গৌড়ীয় মঠের প্রতিষ্ঠাতা ভক্তি সিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী ঠাকুরের ১৫২তম আবির্ভাব দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নীতিগত মতানৈক্য থাকা ইসকন ও গৌড়ীয় মঠের মতো দুটি প্রভাবশালী সংগঠনকে এক মঞ্চে আনা বিজেপির সুপরিকল্পিত কৌশলের অংশ।
মায়াপুরে পৌঁছে প্রথমে চন্দ্রোদয় মন্দিরে পুজো দেন শাহ। এরপর মূল অনুষ্ঠানে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আদর্শ ও বৈষ্ণব ধর্মের আধ্যাত্মিক অবদান নিয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি। অনুষ্ঠানের শুরুতে তাঁর ‘হরে কৃষ্ণ’ ধ্বনি ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি করে। উল্লেখ্য, এর আগে আলাদাভাবে উৎসব পালিত হলেও, এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দুই সংগঠনকে যৌথভাবে সক্রিয় হতে দেখা গেছে, যা প্রশাসনিক ও ধর্মীয় মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে সাধু-সন্তদের আশীর্বাদ ও বৈষ্ণব সমাজের সমর্থন আদায়ই গেরুয়া শিবিরের লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও ধর্মীয় সংগঠনগুলির দাবি, তাঁদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ মতভেদ থাকলেও আধ্যাত্মিক উৎসবে তাঁরা ঐক্যবদ্ধ। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, মার্চ মাস থেকে বিজেপির যে ‘বিরাট অ্যাকশন’ শুরু হওয়ার কথা, মায়াপুরের এই সমাবেশ তারই একটি শক্তিশালী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করল।

