৩৩ মিনিটের মরণখেলা! আর জি করের সেই রহস্যময় চাবি কি প্রাণ কাড়ল অরূপের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
সুপারের ঘরেই ছিল চাবি অথচ জানতেন না রক্ষীরা! আধ ঘণ্টা ধরে বেসমেন্টে ছটফট করে মৃত্যু যুবকের
তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়। আর জি করের ট্রমা কেয়ারে লিফট বিভ্রাটের সময় ঠিক কী ঘটেছিল? লালবাজারের হাতে এল বিস্ফোরক তথ্য। চাবি খুঁজতেই নষ্ট মূল্যবান ৩৩ মিনিট, যার খেসারত দিতে হলো তরতাজা এক প্রাণকে।
তদন্তকারীদের দাবি, ভোর ৪টে ৩০ মিনিটে দুর্ঘটনার পর প্রায় ৪০ মিনিট বেঁচে ছিলেন নাগেরবাজারের অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়। অথচ বেসমেন্টের চাবি কার কাছে, তা নিয়েই তৈরি হয় চরম বিভ্রান্তি। নিরাপত্তারক্ষীরা জানতেনই না যে চাবিটি সুপারের ঘরে রয়েছে। সেই চাবি উদ্ধার করে যখন উদ্ধারকাজ শুরু হয়, ততক্ষণে অরূপের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটেছে।
পুলিশি রিপোর্টে জানা গেছে, অরূপের পাঁজরের ২১টি হাড় ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছিল। লিফট ও দেয়ালের মাঝে পিষে গিয়েও বাঁচার শেষ চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তাঁর স্ত্রী সোনালি কোনোক্রমে ছেলেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দিলেও স্বামীকে বাঁচাতে পারেননি। ভোর ৫টা ৯ মিনিটে উদ্ধার করার ১৮ মিনিটের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যায়।
এই ‘অনিচ্ছাকৃত খুনের’ ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩ লিফটম্যান ও ২ নিরাপত্তারক্ষীকে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে সিআইএসএফ জওয়ানদের ভূমিকাও। লালবাজারের গোয়েন্দারা লিফট রক্ষণাবেক্ষণকারী সংস্থাকে নোটিস পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কর্তব্যরতদের গাফিলতি না থাকলে হয়তো আজ বেঁচে থাকতেন অরূপ, এই প্রশ্নই এখন জোরালো হচ্ছে আর জি কর কাণ্ডে।

