৩৯টি জ্বালানি কেন্দ্রে হামলা, বিশ্বজুড়ে ঘনীভূত হচ্ছে তীব্র তেল ও গ্যাস সংকট – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের তদন্ত অনুযায়ী, শুধু হরমুজ প্রণালী অবরোধ নয়, ৯টি দেশের ৩৯টি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি কেন্দ্রে ড্রোন ও মিসাইল হামলায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। কাতার, সৌদি আরব এবং কুয়েতের মতো দেশের তেল শোধনাগার ও গ্যাস ফিল্ডগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৯ ডলার ছাড়িয়েছে।
হামলার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে কাতারের রাস লাফান প্রাকৃতিক গ্যাস কেন্দ্রে। কাতার এনার্জি জানিয়েছে, দেশের এলএনজি রপ্তানি ক্ষমতার ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা মেরামত করতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে, ইরানের অর্থনীতির মূল ভিত্তি তেল শোধনাগারগুলোও লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় দেশটি চরম সংকটে পড়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের রপ্তানি টার্মিনালগুলো হুমকির মুখে থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা বাড়ছে।
সংকট মোকাবিলায় আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলো আপৎকালীন ভান্ডার থেকে তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমেরিকা ইরানের তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে এবং রাশিয়ার তেলের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি শিথিল করা হয়েছে। তবে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো সরাসরি এই যুদ্ধে জড়াতে অনিচ্ছুক হওয়ায় হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা কাটানো এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা এখন বিশ্বশক্তির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

