৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, নাসার আর্টেমিস ২ মিশনে শুরু হলো মহাকাশ বিজ্ঞানের নতুন অধ্যায়

৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, নাসার আর্টেমিস ২ মিশনে শুরু হলো মহাকাশ বিজ্ঞানের নতুন অধ্যায়

দীর্ঘ ৫৪ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চাঁদের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিলেন চার মহাকাশচারী। নাসার ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস ২’ মিশনের অংশ হিসেবে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বিশাল রকেটে চেপে যাত্রা শুরু করেন তাঁরা। এই দলে রয়েছেন তিনজন মার্কিন নাগরিক রিড উইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কক এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এই সফরটি এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা আগামী দিনে মহাকাশ গবেষণার সংজ্ঞাই বদলে দিতে পারে।

১০ দিনের এই বিশেষ সফরে মহাকাশচারীরা চাঁদের চারপাশে ঘুরে আসবেন, তবে তাঁরা এখনই চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করবেন না। এই অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য হলো অত্যাধুনিক ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ ও নতুন মহাকাশযানের নিরাপত্তা এবং কার্যক্ষমতা নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা। সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক চললে এই দলটি পৃথিবী থেকে মহাকাশে সবচেয়ে দূরে যাওয়ার নতুন রেকর্ড গড়বে। প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে গত ফেব্রুয়ারি থেকে কয়েক দফায় মিশনটি পিছিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত সফল উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয়েছে, যা দেখতে কেনেডি স্পেস সেন্টারে প্রায় চার লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটেছিল।

নাসার মূল লক্ষ্য হলো ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষের স্থায়ী বসবাস ও নিয়মিত যাতায়াতের পথ সুগম করা। চাঁদে থাকা টাইটানিয়াম, লোহা ও হেলিয়ামের মতো মূল্যবান খনিজ এবং মেরু অঞ্চলে জমে থাকা বরফ ভবিষ্যতে মানুষের পানীয় জল, অক্সিজেন ও জ্বালানির প্রধান উৎস হতে পারে। মূলত মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর চূড়ান্ত লক্ষ্যকে সামনে রেখে চাঁদকে একটি পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে নাসা। এই মিশনের মাধ্যমেই মহাকাশের চরম পরিবেশে টিকে থাকার প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা যাচাই করে নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *