৭ ঘণ্টার কম ঘুমোচ্ছেন? অজান্তেই ডাকছেন ভয়ংকর বিপদ! – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ব্যস্ত জীবনযাপন আর স্মার্টফোনের নেশায় বর্তমান প্রজন্মে ঘুমের সময় কমছে আশঙ্কাজনকভাবে। কিন্তু চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানাচ্ছেন, দিনে ৭ ঘণ্টার কম ঘুম কেবল ক্লান্তি নয়, বরং শরীরের জন্য এক নীরব ঘাতক।
কেন পর্যাপ্ত ঘুম অপরিহার্য?
ঘুমের সময় আমাদের শরীরের কোষগুলো পুনর্গঠিত হয় এবং মস্তিষ্ক স্মৃতিশক্তি সঞ্চয় করে। পর্যাপ্ত ঘুম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। চিকিৎসকদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সুস্থ থাকতে প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম প্রয়োজন।
কম ঘুমের মারাত্মক পরিণাম
- মানসিক বিপর্যয়: ঘুমের অভাবে মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা বাড়ে। খিটখিটে মেজাজ দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটায়।
- হৃদরোগের ঝুঁকি: দীর্ঘদিনের অনিদ্রা উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
- ডায়াবেটিস ও স্থূলতা: ঘুম কম হলে শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যায় এবং খিদে বাড়ানোর হরমোন সক্রিয় হয়। ফলে ওজন বৃদ্ধি ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি হয়।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস: শরীর সহজেই ভাইরাস ও সংক্রমণের কবলে পড়ে, যার ফলে ঘন ঘন সর্দি-জ্বর ও ক্লান্তি দেখা দেয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ
সুস্থ থাকতে ঘুমকে বিলাসিতা নয়, বরং শরীরের অন্যতম প্রধান চাহিদা হিসেবে দেখতে হবে। ভালো ঘুমের জন্য চিকিৎসকরা কিছু নিয়ম মেনে চলতে বলছেন:
- প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করা।
- শোয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল ও টিভি থেকে দূরে থাকা।
- রাতে চা বা কফি এড়িয়ে চলা।
- শোবার ঘর শান্ত ও অন্ধকার রাখা।
চিকিৎসকদের মতে, সুনিদ্রাই হলো দীর্ঘায়ু ও সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি। তাই সুস্বাস্থ্যের খাতিরে আজই ঘুমের অভ্যাসে বদল আনুন।

