লেটেস্ট নিউজ

৭ বছরের শিশুকে দু’হাতে তুলে দেওয়ালে আছাড়: ফেটে চৌচির মাথার খুলি, রক্তে ভাসল মেঝে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মানুষের মুখোশ পরে ঘুরে বেড়ানো কিছু মানুষের মধ্যে ন্যূনতম মনুষ্যত্ব আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে। নিজের লালসা ও বিকৃত আনন্দের জন্য যারা শিশুদের ওপর নৃশংস নির্যাতন চালায়, তারা পশুর চেয়েও অধম। ২০১৯ সালে কেরলের তোড়ুপুজায় ঘটে যাওয়া এই শিউরে ওঠা ঘটনা যে কোনো কঠিন হৃদয়ের মানুষকেও কাঁদিয়ে দেবে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

২০১৯ সালের ২৮ মার্চ, ভোর রাত ৪টে। কেরলের তোড়ুপুজার একটি বেসরকারি হাসপাতালের সামনে একটি গাড়ি দ্রুতবেগে এসে থামল। পিছনের সিট থেকে এক মহিলা এক শিশুকে কোলে নিয়ে নামলেন, শিশুটি তখন সংজ্ঞাহীন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মদ্যপ অবস্থায় টলমল করা অরুণ আনন্দ নামের এক যুবক। হাসপাতালে তাঁরা মিথ্যা দাবি করেন যে, “খেলতে গিয়ে শিশুটি নিচে পড়ে গিয়েছে।” কিন্তু শিশুর শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন দেখে চিকিৎসকদের বুঝতে বাকি থাকেনি যে এটি সাধারণ কোনো দুর্ঘটনা নয়।

পুরনো আঘাতের বীভৎসতা

পরীক্ষায় দেখা যায়, শিশুটির মাথার খুলিতে ৬ সেন্টিমিটার গভীর ক্ষত হয়েছে, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু তাই নয়, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পুরনো আঘাতের চিহ্নও ছিল। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ব্যাটারড বেবি সিনড্রোম’ (অর্থাৎ যে শিশুকে নিয়মিত অমানুষিক নির্যাতন করা হয়)। অবস্থার অবনতি হওয়ায় শিশুটিকে দ্রুত কোলঞ্চেরি মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়।

সেই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল?

তদন্তে বেরিয়ে আসা তথ্য শুনে যে কারো রক্ত হিম হয়ে যাবে। সেই রাতে মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরে অরুণ আনন্দ সোফায় বাচ্চাদের শুয়ে থাকতে দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ভয়ে ছোট শিশুটি সোফাতেই প্রস্রাব করে দিলে অরুণের রাগ চরমে পৌঁছায়। সেই আক্রোশ সে মেটায় বড় ছেলের ওপর। “তুই কেন ওকে থামালি না?”—এই বলে চিৎকার করে সাত বছরের শিশুটিকে দু’হাতে তুলে দেওয়ালের কোণে সজোরে আছাড় মারে সে। শিশুটি রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকলেও অরুণ থামেনি, বারবার তাকে লাথি মারতে থাকে।

সবচেয়ে ভয়ানক বিষয় হলো, নিজের সন্তান মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে দেখেও মা তাকে হাসপাতালে নেওয়ার বদলে ঘরের রক্ত ধুয়ে মুছে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেন। নিজের সন্তানের চেয়ে প্রেমিকের প্রতি অন্ধ আসক্তি তাঁকে এক নিষ্ঠুর অপরাধীতে পরিণত করেছিল।

করুণ পরিণতি

প্রায় ১০ দিন ভেন্টিলেটরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ৬ এপ্রিল শিশুটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। পরবর্তী তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত অরুণ আনন্দ একজন দাগি অপরাধী। সে ওই পরিবারের ছোট শিশুটির ওপরও যৌন নির্যাতন (POCSO) চালিয়েছিল। যৌন নির্যাতনের মামলায় তাকে ইতিপূর্বেই ২১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, আর বড় শিশুটিকে হত্যার মামলার বিচার প্রক্রিয়া এখনও চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *