৯ এপ্রিল থেকে ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত জনমত সমীক্ষায় নিষেধাজ্ঞা কমিশনের

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে অবাধ ও নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় রাখতে বড় পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। কমিশনের জারি করা নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ৯ এপ্রিল সকাল সাতটা থেকে ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত যে কোনো ধরণের জনমত সমীক্ষা বা ‘এক্সিট পোল’ পরিচালনা, প্রকাশ এবং প্রচারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ১২৬ এ ধারা অনুযায়ী এই নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সংবাদপত্র, বৈদ্যুতিন মাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো সমীক্ষার তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে ভোটারদের ওপর যাতে কোনো মানসিক প্রভাব না পড়ে, তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর ব্যবস্থা। নির্দেশ অমান্যকারী ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে কমিশন।
এসআইআর (SIR) তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক ও অস্থিরতা নিয়ে মুখ খুলেছে নির্বাচন কমিশন। জোকার ট্রাইব্যুনাল গঠন প্রসঙ্গে কমিশন জানায়, আপাতত আট সপ্তাহের জন্য জায়গা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং সেখানেই প্রাথমিক কাজ চলবে। প্রায় ৪৭-৪৮ লক্ষ আবেদনের নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং আদালত আগামী ৭ তারিখের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। এই বিষয়ে সাম্প্রদায়িক উস্কানি বা ভুল তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে যে, নাম বাদ যাওয়ার সাথে ধর্ম বা জাতের কোনো সম্পর্ক নেই। কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে, যা কাম্য নয়।
ভোটার তালিকায় নাম তোলা সংক্রান্ত বিভ্রান্তি দূর করতে কমিশন ৬ নম্বর ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমাও স্পষ্ট করে দিয়েছে। জানানো হয়েছে, ২৭ তারিখ পর্যন্ত জমা পড়া ৬ নম্বর ফর্মগুলি খতিয়ে দেখেই তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব। নতুন নামের ক্ষেত্রে ১০ দিনের একটি নির্দিষ্ট যাচাইকরণ ও আপত্তির সময় দিতে হয়, তাই সোমবারের পর আর নতুন কোনো ভোটার তালিকা তৈরি করা হবে না। অর্থাৎ, সোমবার পর্যন্ত যে সব নাম চূড়ান্ত তালিকায় উঠেছে, কেবল তারাই আসন্ন নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। নির্বাচনের পবিত্রতা রক্ষায় এবং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশন এই সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
